২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল; টিকিটের দাম ছুঁয়েছে ১৩ লাখ টাকা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শুরু হতেই ফাইনাল ম্যাচের আকাশচুম্বী মূল্য নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিফার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০,৯৯০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সমান।
তবে বিষয়টি এখানেই থেমে নেই। ফিফার অফিসিয়াল ‘রিসেল’ প্ল্যাটফর্মে একই টিকিটের দাম উঠেছে ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার পর্যন্ত, যা প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি। এমনকি সর্বনিম্ন রিসেল টিকিটও ২৭ হাজার ডলার (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা) দামে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
ফিফা এবার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যেখানে টিকিটের দাম নির্ভর করছে চাহিদার ওপর। ফলে একই ম্যাচের টিকিট সময় ও চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হচ্ছে, যা সাধারণ দর্শকদের জন্য পরিকল্পনা করা কঠিন করে তুলছে।
গত ডিসেম্বরে সমর্থকগোষ্ঠীর জন্য যে টিকিট ছাড়া হয়েছিল, তখন ফাইনালের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৮,৬৮০ ডলার। কিন্তু সাধারণ বিক্রির সময় সেই দাম বেড়ে প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় ক্যাটাগরির টিকিট ৭,৩৮০ ডলার (প্রায় ৯ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় ক্যাটাগরির টিকিট ৫,৭৮৫ ডলার (প্রায় ৭ লাখ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ টিকিট মূল্য ছিল ১,৬০৪ ডলার, যা বর্তমান দামের তুলনায় অনেক কম। এমনকি ২০২৬ বিশ্বকাপের বিড প্রস্তাবনায় ফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ১,৫৫০ ডলার রাখা হয়েছিল, যা বাস্তবে অনেক গুণ ছাড়িয়ে গেছে।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিট তুলনামূলক কম দামে শুরু হলেও সেগুলোর মধ্যেও বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে। টিকিটের দাম ১৪০ ডলার থেকে শুরু হয়ে ২,৯৮৫ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। তবে জনপ্রিয় দল ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রে দাম অনেক বেশি রাখা হয়েছে।
টিকিট বিক্রির সময় প্রযুক্তিগত সমস্যাও বড় আকারে সামনে এসেছে। অনেক সমর্থক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভার্চ্যুয়াল লাইনে অপেক্ষা করেও টিকিট কিনতে পারেননি। কেউ কেউ ভুল লিংকে প্রবেশ করে আবার লাইনের শেষে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন, ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের টিকিট হাতছাড়া হয়েছে।
এছাড়া করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজের দাম আরও বেশি। যেমন, ইংল্যান্ড–পানামা ম্যাচের একটি বিলাসবহুল স্যুইটের মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ ডলার, যেখানে ২৪টি টিকিটসহ খাবার ও পানীয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
টিকিটের মূল্য কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বড় সমালোচনা হচ্ছে স্বচ্ছতার অভাব। ফিফা এখনো পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা বা বিভিন্ন ক্যাটাগরির টিকিটের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ফলে সমর্থকদের জন্য আগাম পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘ফিফার টিকিট ব্যবস্থাপনার আরেকটি বড় ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে সাধারণ সমর্থকদের জন্য অংশগ্রহণ ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন শুরু হবে এবং ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।