জীবননগর ছাড়ছেন ইউএনও আল-আমীন

অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগে বহুদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের ঘেরাটোপে থাকা জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আল-আমীনকে অবশেষে সরিয়ে দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরপর তিন দফা বদলি স্থগিত হওয়ার পর চতুর্থ দফায় তাঁকে শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সচেতন মহলে এই সিদ্ধান্তকে “বিলম্বিত হলেও সঠিক পদক্ষেপ” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন–২ শাখা থেকে সোমবার জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে ইউএনও আল-আমীনকে ঝিনাইগাতি উপজেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশ অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যেই তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। একই প্রজ্ঞাপনে জীবননগরের নতুন ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল আলম রাসেল।
গত দুই মাসেই তাঁকে পরপর তিনবার বদলি করা হয়—কুষ্টিয়ার মিরপুর, ভেড়ামারা ও ফরিদপুরের নগরকান্দায়। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ছায়ায় প্রতিবারই কোনো না কোনোভাবে বদলি স্থগিত হয়ে যায়।
প্রশাসন–সংশ্লিষ্টদের মতে, “অস্বাভাবিক প্রভাব” ছাড়া একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে এমন ধারাবাহিক স্থগিতাদেশ পাওয়া সম্ভব নয়।
জীবননগরে দায়িত্ব পালনের পুরো সময়টিতে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ তীব্র হতে থাকে।
সাম্প্রতিক আলোচনায় থাকা একটি ঘটনায়— জীবননগর উপজেলার আলীপুরের হাজী মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী শ্লীলতাহানির খবর প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
বিষয়টি নিয়ে জীবননগর প্রেসক্লাব জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠায়।
স্থানীয়দের বক্তব্য, শ্লীলতাহানি অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আজও বহাল তবিয়তে করছেন। এলাকায় গুঞ্জন—চাকরি রক্ষায় মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে, যা ইউএনও প্রশাসন “উপেক্ষা” করেছে।
ইউএনও আল-আমীনের নানা কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। সর্বশেষ বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, “জীবননগর অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।