ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে প্রস্তুত শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ বাদ দেওয়ায় বাড়ছে চাপ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
পিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ হিসেবে বিশ্বকাপে না খেলার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামীকাল শুক্রবার অথবা আগামী সোমবারের মধ্যে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি।
এই দোলাচলের মধ্যেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ—ভারত-পাকিস্তান লড়াই ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজক দেশগুলোর একটি শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটি ঘিরে সম্ভাব্য উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে সামনে রেখে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। দর্শক প্রবেশ থেকে শুরু করে দলগুলোর যাতায়াত—সবকিছুই থাকবে কড়া নজরদারিতে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত, পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ—সব মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন সবার নজর পিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে। পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হওয়ার কথা। সেই ম্যাচের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে।
ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো লঙ্কান ভূমিতে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছিল। আইসিসি সেটা তো মানেই-নি, উলটো বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে ডাকা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশে এই বিরোধের পুরো সময়জুড়ে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা নীরব অবস্থান বজায় রেখেছে। অবশেষে মুখ খুললেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি বান্দুলা দিসানায়েকে।
তিনি এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না কলম্বো। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বিরোধ চলছে, সে বিষয়ে আমরা নিরপেক্ষ থাকছি। এই তিন দেশই আমাদের বন্ধুপ্রতিম। তবে অনুরোধ জানানো হলে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশের জন্যই শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত।
এদিকে, লঙ্কান ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা বলছেন, টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিটগুলোই সব অংশগ্রহণকারী দলের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে।