সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, নার্স পলাতক

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় (৭ বছরের) হাবিবা নামে, এক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নার্স পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিহত শিশুটির বাবা কামরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “আমার সুস্থ-সবল মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। আজ সে হাসপাতালের বেডেই লাশ হয়ে পড়ে আছে।”
তিনি জানান, চলতি মাসের ১৭ তারিখ মেয়েকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অপারেশনের আগেই একটি ইনজেকশন পুশ করার পরপরই তার মেয়ে মারা যায়।
কামরুজ্জামান আরও বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মেয়ের একটি আঙুল বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। আঙুলটি অপারেশন করে সোজা করার কথা ছিল। এছাড়া তার মেয়ের আর কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল না। ভুল চিকিৎসার কারণে মেয়ের মৃত্যু তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটি চলতি মাসের ১৭ তারিখ হাসপাতালের ২য় তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল এবং প্রফেসর নুরুল্লাহর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। নিয়ম অনুযায়ী অপারেশনের আগে ইনজেকশন দেওয়ার কথা অপারেশন থিয়েটারে। কিন্তু সে নিয়ম না মেনে সিনিয়র স্টাফ নার্স ইয়াসিন ওয়ার্ডেই শিশুটিকে ইনজেকশন দেন। তবে কী ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেননি হাসপাতাল পরিচালক।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নার্সের ভুল ইনজেকশনের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এটি একটি ক্রাইম। কি ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে তাও কেউ জানেন না। অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞেসা করা হলে জানা যাবে কি ধরনের ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি শিশুটির পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নার্স ইয়াসিন বর্তমানে কোথায় রয়েছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার পরপরই তিনি পালিয়ে গেছেন। তবে হাসপাতালে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত রয়েছে এবং নার্সকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম নতুন কাগজের প্রতিবেদককে বলেন, “শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৭ বছরের এক শিশু ভুল চিকিৎসায় নিহত হওয়ার ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় এসেছিলেন। আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”