আইসিসির রায় মেনে নিলেও মামলা করবে না বিসিবি

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারত সফরে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে বিষয়টি নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলে। বিসিবি ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর খুব কাছাকাছি সময়ে সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনকে ‘অবাস্তব’ বলে মনে করে আইসিসি।
আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোর নিরপেক্ষতা ও কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ যদি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলতে রাজি না হয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
শেষ পর্যন্ত বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় গতকাল আইসিসি বোর্ড বৈঠকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশের শূন্যস্থান পূরণ করতে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্কটল্যান্ডকে, যারা এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে বিসিবি, অন্যদিকে আইসিসির কঠোর অবস্থান নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে ভক্তদের জন্য হতাশার খবর।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ ও গোয়েন্দা রিপোর্টের কারণে সরকার বিসিবিকে দল পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। গতকাল (শনিবার) আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর বোর্ড সভায় বসেন বিসিবির পরিচালকরা। সভা শেষে বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়ায়তেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্বকাপেরটা পুরো নিরাপত্তার বিষয়। এমনটা আগে হয়তো হয়নি, এবার হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ভারতে আমাদের খেলা নিরাপদ না। একাধিকবার তাদের (আইসিসি) সঙ্গে মিটিং হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিও ছিলেন। তারা বলেছেন ভেন্যু বদল সম্ভব না। সরকার থেকে সিদ্ধান্ত আসে, ভারতে গিয়ে (বাংলাদেশের) খেলা সম্ভব হবে না। আইসিসিকে আমরা বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছিলাম, এই সূচি অনুযায়ী আমাদের খেলা সম্ভব না। আমরা আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। ভারতে গিয়ে খেলতে পারছি না আমরা, আর কোনো আলাদা ব্যাপারেও (আইনি পথে) আমরা যাচ্ছি না।’
এই সিদ্ধান্তটি এককভাবে বিসিবির নয়, বরং চারটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পর্যালোচনার ফল। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানান, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যাচ্ছে না নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্য। বিসিবি, বিসিসিআই, আইসিসি একেকটা প্রতিষ্ঠান। আমরা সরকারকে বলার পর তথ্য, পররাষ্ট্র, যুব ও ক্রীড়া এবং আইন চারটা মন্ত্রণালয় মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন ‘এখানে আপনারা অনেকে আছেন, সমর্থকরা আছে। তাদের সবার কথা ভাবতে হয়েছে। সরকার সবার কথা ভেবে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। বিসিসিআই কোনো রাষ্ট্র না। রাষ্ট্র টু রাষ্ট্র যখন কথা হয়েছে, আমরা সেরকম কিছু (নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা) পাইনি। আমরা কখনও বলিনি আমরা খেলতে চাইনি। সরকার থেকে বলা হয়েছে– আমরা নিরাপদ না। গতকালও আসিফ নজরুল (যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা) স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট থাকে একটা, গোয়েন্দা রিপোর্ট (এর ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত)।’