জাতীয় দলে সাকিবের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত বিসিবির

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের পর থেকেই জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যায়নি সাকিব আল হাসানকে। মাঠের বাইরে নানা আলোচনা, অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণে দীর্ঘ সময় ধরেই জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বোর্ড মিটিং শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন আভাসই দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর।
এর মধ্যে একাধিকবার গুঞ্জন উঠেছিল—সাকিব দেশে ফিরে আবারও টাইগারদের হয়ে খেলতে পারেন। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু সিরিজকে সামনে রেখে তাঁর ফেরার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ককে।
তবে এবার পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যৎ সিরিজ ও দলের ভারসাম্য বিবেচনায় রেখে সাকিব আল হাসানকে আবার জাতীয় দলে ফেরানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে বোর্ড। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের মতো ক্রিকেটারের অভাব যে দলে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিসিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ফিটনেস, ম্যাচ প্রস্তুতি এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলে সাকিবের জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ নয়। আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচি সামনে রেখে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং অলরাউন্ড দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য এখনো বড় সম্পদ—এমনটাই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ফলে সব কিছু অনুকূলে থাকলে, দীর্ঘ বিরতির পর আবারও টাইগার জার্সিতে সাকিবকে দেখার অপেক্ষা বাড়ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
বিসিবির এই পরিচালক বলেন, ‘আমাদের একটা এজেন্ডা ছিল, ক্রিকেট অপারেশনসে, আমাদের যে কয়জন খেলোয়াড় চুক্তিবদ্ধ হবেন সেখানকার খেলোয়াড় তালিকা নিয়ে। খেলোয়াড়দের গ্রেড নিয়ে, ‘সি’, ‘বি’, ‘ডি’ ইত্যাদি নিয়ে। তখন আমাদের ডিরেক্টর প্রস্তাব দিয়েছেন যে সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশের হয়ে খেলতে) আগ্রহী এবং সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে খেলতে চায়। আমাদের তরফ থেকে যেটা হচ্ছে, সাকিব যদি খেলতে চায়, সেক্ষেত্রে আমাদের বোর্ড ফিটনেস বা দলে ফিরতে (নির্বাচন) যে সমস্ত আনুষ্ঠানিক ব্যাপার আছে সেগুলো, যেমন সাকিব কতটুকু ফিট বা তার ট্রেনিংয়ের কী অবস্থা সেটা দেখবে। আমাদের প্রেসিডেন্টকে (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। তার (সাকিবের) ব্যক্তিগত যে ইস্যুগলো রয়েছে সেগুলো যদি সরকার অনুমতি দেয় বা সরকার কীভাবে সেটা মোকাবেলা করবে সেটা সরকারের ব্যাপার। কিন্তু আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবকে চেয়েছি।’
আসিফ আকবর আরও বলেন, ‘বিপিএলের কারণে বসা হয়নি। বাট আজকে বসার পর সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছি, আগামী ১ বছর কারা আমাদের সাথে চুক্তিতে থাকবে। সেই চুক্তির প্রসঙ্গ আসতেই... প্রস্তাব আসছে, সাকিবের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রস্তাবটা এসেছে, এবং সেই প্রস্তাবের আমিই সমর্থক ছিলাম। সাকিবের সঙ্গে সরকারের কী সমস্যা, আইন-আদালতের কী হিসাব আছে সেটা সরকার দেখবে। কিন্তু আমরা বোর্ড থেকে সাকিবকে চেয়েছি যে, আমাদের চুক্তিবদ্ধ যে তালিকাটা হবে বিভিন্ন গ্রেডের খেলোয়ারদের, সেখানে সাকিবের নাম আমরা প্রস্তাব করেছি। সরকারের সঙ্গে আলাপ করবেন আমাদের বিসিবি প্রেসিডেন্ট।’
পরে বিসিবির মিডিয়া কমিটির ম্যানেজার আমজাদ হোসেন খোলাসা করেন, ‘আপনাদের অবগত করতে চাই, সাকিবকে নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে যদি সাকিবের অ্যাভেইলেবিলিটি, ফিটনেস, অ্যাকসেসেবিলিটি এবং যেই ভেন্যুতে খেলা হবে সেখানে যদি তার থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, তাহলে অবশ্যই বোর্ড বা সিলেকশন প্যানেল সাকিবকে বিবেচনা করবে।’