বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের টানা চার জয়

গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেই লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করেই মাঠ ছাড়ল নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দল। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৯ রানে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
কাঠমান্ডুর আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই দৃঢ়তা দেখায় বাংলাদেশ নারী দল। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই সুশৃঙ্খল পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে টাইগ্রেসরা।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকল বাংলাদেশ নারী দল, যা বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার পথে তাদের অবস্থান আরও শক্ত করল। অধিনায়ক নিগার সুলতানা ম্যাচ শেষে বলেন, দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে এবং সামনে আরও ভালো করার লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ নারী দলের এই জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ম্যাচে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা সময় লেগেছে। জুরাইয়া ফেরদৌস দ্রুত ফিরে গেলেও পরে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেয় বাঘিনীরা। দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তার মিলে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন। তাদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের রানের চাকা ঘুরতে থাকে। দিলারা ৩৫ রান করে ফিরলেও শারমিন ছিলেন দৃঢ়। ৪৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে দলের স্কোর এগিয়ে নেন তিনি।
মাঝের ওভারে অধিনায়ক নিগার সুলতানা বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও শেষদিকে সোবহানা মোস্তারি ব্যাট হাতে পার্থক্য গড়ে দেন। মাত্র ১৬ বলে তার করা ৩০ রান বাংলাদেশের রান নিয়ে যায় ১৫৩–এ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে এই রান তোলে বাংলাদেশ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। ওপেনার অ্যামি হান্টার শুরুতে সাবলীল ব্যাটিং করেন। শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত দলের স্কোরবোর্ড বেশ দ্রুত এগোয়। প্রথম উইকেট পড়ে ১০ ওভার পার হওয়ার পর।
অধিনায়ক গ্যাবি লুইস দায়িত্ব নিয়ে খেলতে থাকেন। তার ব্যাট থেকে আসে লড়াকু ৭৩ রান। কিন্তু অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে রান আটকে দেয় বাংলাদেশি বোলাররা। বিশেষ করে শেষ দিকের ওভারগুলোতে চাপ বাড়িয়ে দেয় স্বর্ণা আক্তার ও রাবেয়া খানদের বোলিং।
শেষ চার ওভারে জয়ের জন্য আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। উইকেট হাতে থাকলেও প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি তারা। নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৯ রানের জয় নিশ্চিত করে।