শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা, রংপুরকে হারাল সিলেট

অল্প রানের লক্ষ্য, শেষ ওভারের নাটকীয়তা আর শেষ বলের অবিশ্বাস্য ছক্কা—সব মিলিয়ে বিপিএলে দেখা গেল টি-টোয়েন্টির চূড়ান্ত উত্তেজনা। এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচেই ক্রিস ওকসের ব্যাটে ভর করে কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছে সিলেট টাইটান্স। অপরদিকে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে রংপুর রাইডার্সকে।
ম্যাচের শেষ ওভারে সিলেট টাইটান্সের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল কঠিন সমীকরণ। ইনিংসের শেষ বলে জিততে দরকার ছিল ৬ রান। চাপের মুহূর্তে কোনো ভুল না করে রংপুরের বোলারের করা ডেলিভারিটি আকাশে তুলে মারেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। বল সোজা গিয়ে পড়ে গ্যালারিতে, সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে সিলেট শিবির।
এই ছক্কার মাধ্যমেই নাটকীয়ভাবে জয় নিশ্চিত করে সিলেট টাইটান্স এবং বিপিএলের কোয়ালিফায়ারে উঠে যায় দলটি। মাঠজুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাস, সতীর্থদের অভিনন্দনে ভাসেন ম্যাচের নায়ক ওকস।
অন্যদিকে পুরো ম্যাচে দারুণ লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের ভুলে বিদায় নিতে হলো রংপুর রাইডার্সকে। টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যে শেষ বল পর্যন্ত অনিশ্চয়তায় ভরা—এই ম্যাচ তারই আরেকটি প্রমাণ হয়ে থাকল বিপিএলের ইতিহাসে।
মঙ্গলবার মিরপুর স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং নিয়ে রংপুর রাইডার্সকে নাগালের মধ্যে রাখে মেহেদী মিরাজের সিলেট টাইটান্স। রংপুর ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। একে একে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তাওহীদ হৃদয় (৪), ডেভিড মালান (৪), লিটন দাস (১) ও কাইল মায়ার্স (৮)।
সেখান থেকে ৩৪ রানের ছোট্ট একটা জুটি দেন খুশদীল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ। পাকিস্তানের স্পিন অলরাউন্ডার খুশদীল ১৯ বলে তিন ছক্কায় ৩০ রান করেন। ১৫.৫ ওভারে দলের ৯৪ রানে সাজঘরে ফেরা মাহমুদউল্লাহ ২৬ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন। নুরুল হাসান ২৪ বলে ২৯ রান যোগ করলে রংপুর ৯ উইকেটে ১১১ রানে আটকে থাকে।
জবাব দিতে নেমে সিলেট ২ রানে ওপেনার তৌফিক খানকে হারায়। তবে দ্বিতীয় উইকেটে পারভেজ ইমন ও আরিফুল ইসলাম ৩৬ রান যোগ করে ধাক্কা সামলে নেন। ইমন ১২ বলে তিন চারের শটে ১৮ রান করে ফিরে যান। আরিফুল ১৮ বলে ১৭ রান করেন। পরেই চারে নামা আফিফ (৩) ফিরলে ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সিলেট।
স্যাম বিলিংস ও সিলেটের অধিনায়ক মিরাজ ৫০ রানের জুটিতে ওই ধাক্কা সামলে ম্যাচ সহজ করে ফেলেন। ১৭ ওভারের শেষ বলে মিরাজ ২৩ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৯৪ রানে ৫ উইকেট হয়ে যায় সিলেট। শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য তখন ১৮ রান দরকার। ওখান থেকে ম্যাচটা জমিয়ে তোলে রংপুর।
১৮তম ওভারে আলিস আল ইসলাম মাত্র ৩ রান দেন। ১৯তম ওভারে মুস্তাফিজ ৬ রান দিয়ে বিলিংকে তুলে নেন। তিনি ৪০ বলে ২৯ রান করেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৯ রান দরকার ছিল সিলেটের। পাকিস্তানের পেস অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফের প্রথম ৪ বলে মাত্র ২ রান নিয়ে সাজঘরে ফেরেন মঈন আলী। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ওকসকে স্ট্রাইক দেন খালেদ আহমেদ। শেষ বলে জয়ের জন্য ৬ রান দরকার ছিল সিলেটের। লং অফের ওপর দিয়ে ওকস কাঙ্খিত শটটা খেলে দলকে জয় এনে দেন।
এর আগে বল হাতে সিলেটের হয়ে দুর্দান্ত করেছেন খালেদ ও ওকস। পেসার খালেদ ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন। ওকস ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। স্পিনার নাসুম ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচায় ২ উইকেট দখল করেন। রংপুরের মুস্তাফিজ ও আলিস যথাক্রমে ২০ ও ১৮ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।