ব্রুকলিন পেল্টজ বেকহ্যামের স্পষ্ট অবস্থান: পরিবারে আর ফিরে যাবেন না

বিশ্বখ্যাত ফুটবলার স্যার ডেভিড বেকহ্যাম ও সাবেক স্পাইস গার্ল ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের জ্যেষ্ঠ সন্তান ব্রুকলিন পেল্টজ বেকহ্যাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি আর পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের পুনর্মিলনে যেতে চান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন।
২৬ বছর বয়সী ব্রুকলিন বলেন, তাঁর বাবা-মা এবং তাঁদের টিম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী নিকোলা পেল্টজ বেকহ্যামের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে “মিথ্যা তথ্য” ছড়িয়ে আসছেন। তাঁর দাবি, নিজেদের “ইমেজ” রক্ষা করতেই তাঁরা এই কাজ করছেন।
ব্রুকলিন লেখেন, “আমি বহু বছর নীরব থেকেছি এবং বিষয়গুলো ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার বাবা-মা বারবার সংবাদমাধ্যমে যাচ্ছেন, তাই এবার আমাকে নিজের জন্য কথা বলতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নই। জীবনে প্রথমবার নিজের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি।”
বিবৃতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর স্ত্রী নিকোলার সঙ্গে সম্পর্ক। ব্রুকলিনের অভিযোগ, তাঁর পরিবার নিকোলাকে কখনোই সম্মান করেনি। তাঁদের বিয়ের সময়ও নানা জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের ঠিক আগে ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম নিকোলার পোশাক তৈরি বাতিল করে দেন, যার ফলে শেষ মুহূর্তে নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করতে হয়।
এ ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রথম নাচের সময় ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম ‘অযথাভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন’ বলেও অভিযোগ করেন ব্রুকলিন। তাঁর দাবি, সেই ঘটনায় নিকোলা অপমানিত ও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন।
ব্রুকলিন আরও বলেন, বিয়ের আগে তাঁর বাবা-মা তাঁকে নিজের নামের স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে সই করতে চাপ ও প্রলোভন দেখান। তিনি রাজি না হওয়ায় পারিবারিক সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে যায় বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের কয়েক সপ্তাহ আগে তার বাবা–মা তাকে তার নামের পদবী ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ ও ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেন।
বিয়ের পরিকল্পনার সময় মা নাকি ব্রুকলিনকে ‘এভিল’ বা ‘অশুভ’ বলেছিলেন। ব্রুকলিনে দাবি, পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পর থেকেই তিনি বাবা–মায়ের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্যভাবে একের পর এক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এমনকি তার ভাইদেরও সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে উসকানি দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ব্রুকলিন। পরে গত গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই ভাইয়েরা তাকে ব্লক করে দেন বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি ডেভিড বেকহ্যামের ৫০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ব্রুকলিন ও নিকোলার অনুপস্থিতি নিয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, লন্ডনে গেলেও বাবা তাঁদের সঙ্গে একান্তে সময় দিতে রাজি হননি এবং স্ত্রীকে ছাড়া দেখা করার শর্ত দেন, যা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।
ব্রুকলিন বলেন, “আমার পরিবারে সবকিছুর আগে ব্র্যান্ড বেকহ্যাম। ভালোবাসার মূল্য নির্ধারিত হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় কতটা পোস্ট করা হচ্ছে তার ওপর।” তিনি আরও দাবি করেন, পরিবার থেকে দূরে আসার পর তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ অনেকটাই কমে গেছে।
এ বিষয়ে ডেভিড ও ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। এতদিন ধরে গুঞ্জন হিসেবে আলোচিত এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে চলে এলো ব্রুকলিন পেল্টজ বেকহ্যামের বক্তব্যের মাধ্যমে।