অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক

ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এ চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে উদ্ভূত উত্তেজনা ও অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুনরায় ক্লাস শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে ক্লাস বন্ধের ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া অনুকূল নয়। বিষয়টি সমাধান ও দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস স্থগিত থাকবে।
এর আগে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। হিজাব ও নিকাব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, মুসলিম শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
একইসঙ্গে আওয়ামী রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ওই বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনকেও বহিষ্কার করা হয়। দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
গত ১৮ জানুয়ারি দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, হিজাব ও নিকাব পরার কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক আচরণ, ইসলামের বিধান নিয়ে কটূক্তি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে। এছাড়া ক্লাস চলাকালে নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ শিক্ষার্থীদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তারা।