শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি, বিসিবি-আইসিসি আলোচনা অব্যাহত

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি, বিসিবি-আইসিসি আলোচনা অব্যাহত
ছবি: বিবিসি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ—এই ইস্যুতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

শনিবার বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর বিসিবি জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা “গঠনমূলক আলোচনায়” অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখবে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার দল, দর্শক, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তা আইসিসির সামনে উপস্থাপন করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আলোচনাগুলো ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার পরিবেশে। ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে অন্য একটি গ্রুপে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বর্তমানে বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ইংল্যান্ড, নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে।

আইসিসির প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইভেন্টস ও করপোরেট কমিউনিকেশনের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা এবং ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। বাংলাদেশের ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় গৌরব সাক্সেনা ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন, তবে অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।

বিসিবির পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি শাকাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

ভারতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে সংকটের সূত্রপাত ঘটে আইপিএল ২০২৬ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর। এই সিদ্ধান্তের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না এলেও, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

এরপর বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় এবং বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারতে খেলতে না চাওয়ার অবস্থান জানায়। একাধিক বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেনি বিসিবি।

এদিকে, একটি স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থার প্রস্তুত করা ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে খেলতে যাওয়া দলগুলোর জন্য হুমকির মাত্রা ‘মাঝারি থেকে উচ্চ’ পর্যায়ে থাকলেও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন