বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নিয়ে সুখবর ফিফা সভাপতির

আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরের বাকি এখনও পাঁচ মাস সময় থাকলেও, বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে উন্মাদনা।
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত এই টুর্নামেন্টের উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে গত বুধবার বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেছে।
বিশ্বকাপ ট্রফির এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যায়। ট্রফি একনজর দেখতে এবং ছবি তুলতে ভিড় করেন অসংখ্য সমর্থক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ ট্রফির এ ধরনের সফর বিশ্বব্যাপী ফুটবলের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আয়োজক দেশগুলোর বাইরে থাকা দর্শকদের মধ্যেও টুর্নামেন্টের আবেশ ছড়িয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর, যেখানে অংশ নেবে ৪৮টি দল এবং আয়োজন হবে তিনটি দেশে একযোগে।
জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি সামনে থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তারা না পারলেও আগামী প্রজন্ম ঠিকই একদিন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নেবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দারুণ আশার এক মন্তব্য করেছেন খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, যা শুনলে আপনিও অবাক হতে পারেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফান্তিনোর কাছে তার এক অনুসারী প্রশ্ন রাখেন; বাংলাদেশ কি কখনো বিশ্বকাপ খেলবে? শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান। এক পোস্টে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘অবশ্যই, বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারে। বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশগুলো যাতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে, সেটাই ফিফার লক্ষ্য।'
উদাহরণ হিসেবে প্রথমবার অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ইনফান্তিনো, 'আমাদের বেশ কয়েকটি নবাগত দল রয়েছে যারা আগে কখনো বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। এখানে আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দ, কনক্যাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও রয়েছে। আমাদের এখানে উজবেকিস্তান রয়েছে যারা প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে এবং জর্ডান রয়েছে যারা প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে।’
বাংলাদেশকে নিয়ে কেন আশা দেখছেন ইনফান্তিনো? তার যুক্তিও দেখিয়েছেন ফিফা বস, ‘বাংলাদেশ ফুটবলের দারুণ এক দেশ, যেখানে ফুটবল বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তাদের অবশ্যই একটি সুযোগ আছে। বাংলাদেশ ফুটবল ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেড়ে উঠতে ফিফা প্রচুর বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব জায়গায় প্রতিভা রয়েছে এবং আমরা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি।’
উল্লেখ্য, ফিফা সভাপতির এমন মন্তব্য আসলে কখনও বাস্তবতার মুখ দেখবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে পরিসংখ্যান বলে বিশ্বকাপ তো দূরের কথা বাংলাদেশ এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চেই যেতে পেরেছে কেবলমাত্র একবার। তাও আবার সেই ১৯৮০ সালে। এবার হামজা চৌধুরী, শমিত শোমদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও এশিয়ান কাপে খেলার আশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তারপরও মানুষ বাঁচে আশায়। হয়ত ঠিকই একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উড়বে।