শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

বিসিবির ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত : আইসিসির তিনটি সম্ভাব্য সমাধান

বিসিবির ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত : আইসিসির তিনটি সম্ভাব্য সমাধান
ছবি- নতুন কাগজ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মুস্তাফিজের বিষয়টি নিয়ে বিসিবি ইতোমধ্যেই গ্রহনযোগ্য মানছে না এবং এর প্রতিবাদে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়া হবে না এমন সিদ্ধান্ত আইনস্টিটিউট অফ ক্রিকেট কন্ট্রোল (ICC)-কে জানিয়েছে।

বিসিবির কর্মকর্তারা জানান, তারা আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নথি পাঠিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার বক্তব্য স্পষ্ট করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বিশ্ব ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এখন সবকিছু আইসিসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ক্রিকেটবিশ্ব আগ্রহ ও উৎসুকতার সঙ্গে অপেক্ষা করছে—আইসিসি কি সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিশ্বকাপের ফ্রেমওয়ার্কে কী পরিবর্তন আসবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল একটি ক্রিকেটীয় ঘটনা নয়, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও খেলাধুলার রাজনীতিরও একটি বড় অধ্যায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও তারা বাংলাদেশের দাবি মানতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ক্রিকবাজ ও ভারতীয় অনেক গণমাধ্যম। যদিও এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে তিনটি পথ বেছে নিতে পারে আইসিসি।

প্রথম পথ: ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে দেওয়া হতে পারে শ্রীলঙ্কায়। ৭ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক তারা। আগের চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে খেলতে যাবে না পাকিস্তান। তাদের সব ম্যাচই শ্রীলংকায় আয়োজিত হবে। গত বছর নারী বিশ্বকাপেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়।

দ্বিতীয় পথ: বাংলাদেশকে পয়েন্ট হারাতে হতে পারে এবং ভারতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো ছেড়ে দিতে হতে পারে। এতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চারটি দল এমনিতেই ২ পয়েন্ট করে পেয়ে যাবে। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা আরও ঘটেছে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ় শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি। একইভাবে, ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজ়িল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড ওয়াকওভার দিয়েছিল যথাক্রমে কেনিয়া এবং জ়িম্বাবুয়েকে। ওই দুই দেশে খেলতে যেতে রাজি হয়নি ইংলিশরা।

তৃতীয় পথ: বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই বাতিল করে দিতে পারে আইসিসি। সে ক্ষেত্রে অন্য একটি দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেয়া হবে। অতীতেও এমনটা ঘটেছে। ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশে খেলতে যেতে চায়নি অস্ট্রেলিয়া। পরে তাদের বাদ দিয়ে আয়ারল্যান্ডকে নেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, সূচি অনুযায়ী গ্রুপ ‘সি’-তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন