শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাজধানীর জোয়ারসাহারায় চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট মতভেদ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, জাতীয় ঐক্যে জোর প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান জিরো এমিশন ইস্যুতে বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী লো-ফিডে উৎপাদন অব্যাহত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের নিয়ন্ত্রণে কড়া সমালোচনা উইজডেনের অনলাইন ক্লাস না চাইলেও বাস্তবতায় বাধ্য: শিক্ষামন্ত্রী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত গিরিশ চন্দ্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর হাসনাতের সঙ্গে কী হয়েছিল বিস্তারিত জানালেন মনজুর আলম
  • সরিষার মৌসুমে ঝিনাইদহ, মাঠ যেন হলুদ সমুদ্র

    সরিষার মৌসুমে ঝিনাইদহ, মাঠ যেন হলুদ সমুদ্র
    ছবি- নতুন কাগজ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঝিনাইদহে চলতি কৃষি মৌসুমে প্রায় ১৩,২৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচে চাষ হয় এবং লাভও ভালো হওয়ায় চাষিরা আশাবাদী।

    জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সোনালি সরিষা ফুলে সাজানো। হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ। যেদিকে চোখ যায়, যেন একরাশ হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। চাষিরা জানিয়েছেন, সরিষার বাজারমূল্যও ভালো থাকায় লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

    কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরিষা চাষে খরচ কম এবং পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এটি ঝিনাইদহের ছোট ও মাঝারি চাষিদের জন্য লাভজনক ফসল হিসেবে গণ্য হয়। মাঠের এই সোনালি রঙ শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, বরং গ্রামীণ চিত্রকেও মনোরম করে তুলেছে।

    এবারের মৌসুমে সরিষা চাষ ঝিনাইদহে কৃষকদের জন্য উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার মোট ১৩ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে কৃষক সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার অধিকাংশ মাঠেই সরিষার আশানুরূপ ফলন হয়েছে। স্বল্পমেয়াদী আবাদি ফসল হওয়ায় সরিষার আবাদ জেলায় বেড়েছে। যা জেলার ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে বলেও জানায় কৃষি বিভাগ।

    সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের সরিষা চাষি আলামিন হোসেন বলেন, ‘এই ফসল আবাদে খরচ খুবই কম। বোরো ধান কাটার পরে প্রায় তিন মাস জমি ফাঁকা পড়ে থাকে। এই সময়টুকুতে আমরা সরিষার আবাদ করেছি। প্রায় ২ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। বিঘাপ্রতি ১০-১২ হাজার টাকা লাভ হবে এবার।’

    কৃষক বসির উদ্দিন বলেন, ‘সরিষার আবাদ করলে জমির উর্বরতা প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া আমাদের একটা বাড়তি আয় হয়। স্থানীয় বাজারে সরিষার তেলের ব্যাপক চাহিদা। যে কারণে সরিষার চাষ দিন দিন বাড়ছে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, চলতি মৌসুমে জেলার সদর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী সদর উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।

    এ ছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলায় ১,৯৮১ হেক্টর, শৈলকুপায় ২,৯২০ হেক্টর, হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ৩,৩৮০ হেক্টর, কোটচাঁদুপরে ৫০০ হেক্টর ও মহেশপুর উপজেলায় ৫৯৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঝিনাইদহে চলতি মৌসুমে ব্যাপক সরিষার আবাদ হয়েছে। জমি ফেলে না রেখে কৃষকেরা সরিষার আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তারা এবার আশানুরূপ লাভ পাবেন। এ ছাড়া জেলায় উৎপাদিত সরিষা থেকে উৎপন্ন তেল স্থানীয় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে।’

    তিনি বলেন, ‘সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করতে আমরা কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়েছি। এ ছাড়া কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে সার-বীজ বিতরণসহ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি করা হয়েছে। আশা করি, জেলায় আগামী মৌসুমে সরিষার আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।’


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন