প্রবাসী ফুটবলার কিউবা মিচেলের কিংস ছাড়ার নেপথ্যে বেতন বকেয়া

গত বছরের আগস্টে ইংলিশ ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দল ছেড়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শক্তিশালী ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিউবা মিচেল। তরুণ এই মিডফিল্ডারকে ঘিরে তখন সমর্থকদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
তবে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তিনি ক্লাবটির সঙ্গে নিজের চুক্তি বাতিল করেছেন। কিউবা মিচেলের দাবি, ক্লাবের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বেতন নিয়মিত পরিশোধ না করায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর ফুটবল মহলে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কিউবা মিচেল জানান, “পেশাদার ফুটবলে স্থিতিশীল পরিবেশ ও সময়মতো পারিশ্রমিক পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বেতন বকেয়া থাকায় ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এদিকে ক্লাব–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আর্থিক প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কিছু বিলম্ব হয়েছে, তবে দুই পক্ষের আলোচনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
বাংলাদেশি ফুটবলে বিদেশি ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বাড়লেও, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও চুক্তি বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা যে কতটা জরুরি— কিউবা মিচেলের বিদায় আবারও সেটি সামনে এনে দিয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্টে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন কিউবা।
মিডফিল্ডার লেখেন, বকেয়া বেতনের ইস্যু নিষ্পন্ন না করায় আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটাই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় মানসিক ও শারীরিকভাবে খেলার পরিবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
বাংলাদেশের লিগে সব মিলিয়ে পাঁচ মাসের মতো খেলেছেন কিউবা। তবে এ স্বল্প সময়ে নতুন পরিবেশকে আপন করে নিয়েছিলেন তিনি। কিউবা লেখেন, ‘যদিও এখানে আমি স্বল্প সময় ছিলাম, তবে সেটা ছিল কার্যকরী। দলের জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং সতীর্থ ও সমর্থকদের সঙ্গে পরিচয় আমার জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। আমি পুরো সময় পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছি— প্রশিক্ষণ, ম্যাচ এবং সম্মানের সঙ্গে দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ফুটবলাররা কেবল মাঠে খেলাই দেখায় না, আমরা দেই প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাস। তাই মৌলিক দায়িত্বগুলো পূরণ করা উচিত। এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি তিক্তভাবে বের হচ্ছি না। আমি কৃতজ্ঞ সেই সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার জন্য যা স্বল্প সময়ে পেয়েছি।
দেশের ফুটবল কাঠামোর সমালোচনা করে এ মিডফিল্ডার বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল আরও ভালো কিছু পাওয়ার দাবি রাখে। ভালো কাঠামো ও ন্যায়বিচার, যে ফুটবলাররা প্রতিদিন আত্মত্যাগ করে খেলে, তাদের প্রতি ন্যায় নিশ্চিত করা উচিত। এখানে খেলার প্রতি তীব্র ভালোবাসা এবং অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এগুলোর অবশ্যই রক্ষা করা উচিত।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ নিয়ে কিউবা আরও বলেন , যারা বেতন বা অঙ্গীকারের অভাবে চুপচাপ ভোগান্তিতে থাকেন, তাদেরও কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত। কোনো খেলোয়াড়কে ন্যায় এবং পেশাদার আচরণের দাবি করায় অসহায় মনে হওয়া উচিত নয়।