রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনে নতুন আগুন, বিপিএলে ওয়াসিম যুগ শুরু

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য ২০২৫ সাল ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার বছর। বছরের শুরুতেই আইসিসির সহযোগী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। ওই সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং–ব্যাটিং পরিকল্পনা ভেঙে দিয়ে ইউএই’র ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছিলেন দলটির অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও কৌশলী নেতৃত্ব ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে। এবার সেই তারকা ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দলে ভিড়িয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানিয়েছে, দলের মিডল–অর্ডার শক্তিশালী করা ও পাওয়ারপ্লে কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করতেই তাকে নেওয়া হয়েছে। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পাশাপাশি, মাঠে তার নেতৃত্ব–অভিজ্ঞতা রাজশাহীর তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলেও মনে করছে দল–ব্যবস্থাপনা।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণা, বিপিএলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে ওয়াসিমের উপস্থিতি দলকে দেবে—
পাওয়ারপ্লেতে আগ্রাসন
স্পিন ও পেসের বিপক্ষে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা
এবং মাঠ পরিকল্পনায় কৌশলগত গভীরতা
বাংলাদেশি ভক্তদের কাছে একসময় ‘প্রতিপক্ষ নায়ক’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওয়াসিম, বিপিএলের মঞ্চে এবার নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত, যেখানে প্রতিটি ম্যাচেই তিনি হতে পারেন গেম–চেঞ্জার।
টুর্নামেন্টে তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স ও দলীয় প্রভাব কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দেয়া এক ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য জানায় রাজশাহী। তারকা এই অলরাউন্ডারকে স্বাগত জানিয়ে রাজশাহী লিখেছে, ‘ওয়ারিয়র্স এরেনায় স্বাগতম, মুহাম্মদ ওয়াসিম!’
তার ব্যাটিংয়ের দিকে নজর থাকবে রাজশাহী ভক্তদের। সেটা উল্লেখ করা হয়েছে ফেসবুক পোস্টেও, ‘রাজশাহী ওয়ারিয়র্স পরিবারে যুক্ত হলেন বিধ্বংসী ব্যাটার মুহাম্মদ ওয়াসিম। তার ব্যাটের ধার আর পাওয়ার হিটিং দেখার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি। আশা করি, আপনার অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে আমাদের জয়ের পথ আরও সহজ হবে। এবার মাঠ মাতানোর পালা! সবাই মিলে স্বাগত জানাই আমাদের নতুন এই যোদ্ধাকে!'
গত মে মাসে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আরব আমিরাতের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রথমটিতে জিতলেও শেষ দুটিতে লজ্জাজনক পারফরম্যান্সে সিরিজ হারে টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে ৪২ ম্যাচে ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন ওয়াসিম। ৯টি চারের সঙ্গে হাঁকিয়েছেন ৫টি ছক্কা। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দলকে জেতাতে না পারলেও খেলেছেন ৩৯ বলে ৫৪ রানের আশা জাগানো ইনিংস।
টি-টোয়েন্টিতে ১৩০টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে ওয়াসিমের। যেখানে ৩৪.২১ গড়ে রান করেছেন ৪ হাজার ১৪০। ৩টি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে ২৯টি হাফ সেঞ্চুরি। টুকটাক বোলিংও করতে পারেন তিনি।