শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

আর্জেন্টিনাকে ঘৃণার কারণ জানালেন ফরাসি ডিফেন্ডার

আর্জেন্টিনাকে ঘৃণার কারণ জানালেন ফরাসি ডিফেন্ডার
ছবি- সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ফাইনাল—ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ হলেও, ফ্রান্সের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সেটি ছিল এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। কিলিয়ান এমবাপের হ্যাটট্রিক, ম্যাচে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, টাইব্রেকারে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে হার—এই স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফেরে অনেক ফরাসি কিংবদন্তিকে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার আর্জেন্টিনা দলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন ফ্রান্সের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার জিব্রিল সিসে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওই ফাইনালে আর্জেন্টিনা শুধু খেলেনি, তারা মানসিক খেলাও খেলেছে। তাদের উদযাপন, আচরণ—সবকিছুই ছিল ফ্রান্সকে ছোট করার কৌশল।”

সিসে আরও দাবি করেন, “ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড় যে ধরনের কটাক্ষ ও অতি-উল্লাস দেখিয়েছে, তা স্পোর্টসম্যানশিপের সঙ্গে যায় না। তারা বিশ্বকাপ জিতেছে ঠিকই, কিন্তু সম্মান জেতেনি।”

তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল অঙ্গনে আলোড়ন তোলে। আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন, অনেকেই সিসের বক্তব্যকে ‘আবেগপ্রসূত’ ও ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে ফ্রান্স ফুটবল শিবিরে অনেকেই সিসের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকেই এমিলিয়ানো মার্টিনেজের উদযাপন, এমবাপেকে ঘিরে কটাক্ষসহ নানা ঘটনায় দুই দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ দেখা যায়—আর সিসের মন্তব্য সেই উত্তাপে আবারও আগুন ঢালল।

আর্জেন্টিনাকে যে কারণে ঘৃণা করেন সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ হয়েছে ৩ বছর হতে চললেও, সেই ক্ষত যে এখনও পুরোপুরি শুকায়নি—জিব্রিল সিসের কণ্ঠই যেন তার প্রমাণ।

ফরাসি দৈনিক লেকিপ–এ প্রকাশিত কাতার ফাইনাল নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন দেখার পর আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে খেলা এই স্ট্রাইকার। সিসের ভাষায়, “ভিডিওগুলো আবার দেখার পর ভীষণ রাগ হচ্ছিল। সত্যি বলতে, আর্জেন্টিনার প্রতি আমার অনেক ঘৃণা জন্মেছে।”

তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফ্রান্সের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবেও আখ্যা দেন। সিসের মতে, কাতারের ফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ ছিল না, বরং এমন কিছু হিসাব বাকি রয়ে গেছে, যার নিষ্পত্তি দরকার। সেই ‘প্রতিশোধের’ স্বপ্ন তিনি দেখছেন ২০২৬ বিশ্বকাপেই— “আমি চাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচেই আমরা তৃতীয় তারকা জিতি। আর্জেন্টিনার সঙ্গে আমাদের দুই-তিনটা হিসাব এখনো বাকি।”

কেবল মাঠের ফল নয়, কাতার বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনা দলের কিছু আচরণও সিসের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেজকে নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফ্রান্সকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষমূলক গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এনজোর শাস্তি বা অনুশোচনাকে তিনি যথেষ্ট মনে করেন না।

“চেলসির সতীর্থরা তাকে যেভাবে সহজে ক্ষমা করে দিল, সেটা আমি বুঝতেই পারি না,” বলেন সিসে, যিনি নিজেও আইভোরিয়ান বংশোদ্ভূত।

লিভারপুল, মার্সেই ও লাৎসিওর মতো ক্লাবে খেলা সিসে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও ২০০৩ কনফেডারেশনস কাপ জয়ের অংশ ছিলেন। তবে মাঠের বাইরেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি—যার মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনের একাধিক আইনি জটিলতার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়ে।

তবু বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রে একটাই বিষয়—কাতার বিশ্বকাপের সেই ফাইনাল। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও জিব্রিল সিসের কণ্ঠে স্পষ্ট, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন