রাজধানীর বনানীতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী শহীদের অবাধ দখল-মাদক বানিজ্য

রাজধানীর বনানীতে ‘সোর্স শহীদ’ নামে এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও স্থানীয় অপরাধ চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী দাবি করছে, ওই ব্যক্তি বনানী এলাকার বিভিন্ন বস্তি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
বনানীর ২ নম্বর রোড, কড়াইল বস্তি, বেদে বস্তি, গোডাউন বস্তি, এরশাদ নগর ও বেলতলা এলাকাকে মাদক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং পুলিশের নিকটস্থ এলাকায় থেকেও অবাধে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বনানীর টিএন্ডটি মাঠসংলগ্ন গোডাউন বস্তিতে বসে তিনি একদল মাদক ব্যবসায়ীকে লালন-পালন করছেন। এছাড়া, অতীতে তিনি রাজনৈতিকভাবে যুবলীগে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর যুবলীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের ছবি পাওয়া যায়।
বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা অভিযোগ করেছেন, ওই ব্যক্তি পূর্বে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানিতে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং এখনো পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখছেন। তাঁদের মতে, এতে অনেক সময় প্রশাসনের গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, "বিশাল বড় প্রোজেক্ট দখল করে গাড়ির পার্কিং বানাইছে, ঝিল ভরাট করে কয়েক শো-রুম তুলছে এই ফার্মা শহীদ।"
অন্যদিকে, বনানী থানায় সদ্য যোগদান করে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর বলেন, “বনানী থানা এলাকা অপরাধী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য জিরো টলারেন্স ফর্মুলা চলবে। সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে খোঁজ খবর নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি টঙ্গীতে একটি ভবন নির্মাণ করেছেন এবং বনানীর বস্তি এলাকায়ও বেশ কয়েকটি ঘর ও দোকান ভাড়া দিয়ে আয় করেন। এছাড়া সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে নতুন করে কড়াইলের ঝিল দখল চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।