দেবীগঞ্জে চায়না ও দেশি জাতের মিশ্রণে কমলা চাষে বিপ্লব

কয়েক বছর আগেও কমলার গাছ চিনতেন না অনেকেই। কমলা ফল মানেই যেন বিদেশি ফল। এখন সেই কমলা চাষ হচ্ছে দেশেই। কমলা চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষি উদ্যোক্তা। তেমনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকা সুতপাড়া গ্রামে কমলা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তাফিজুর রহমান। নিজ ও পার্শ্ববর্তী গ্রামে পৈতৃক প্রায় তিন বিঘা জমিতে তাঁর বাগানে রয়েছে প্রায় চার শতাধিক কমলা গাছ।
দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের তেরপুপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ‘আবরার অরেঞ্জ গার্ডেনে’ গিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্বল্প দাম, নিজ হাতে গাছ থেকে সতেজ কমলা সংগ্রহ ও ছবি তোলার আকর্ষণেই তাদের এমন উচ্ছ্বাস। প্রতিদিনই মানুষজন এসে গাছ থেকে সতেজ কমলা তুলে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম রকি জানান, “এখানকার কমলা বিদেশি কমলার মতোই স্বাদ লাগে, দামও তুলনামূলক কম তাই এখানে এসে ভালোই লাগছে।”
বাগানের তত্বাবধায়ক দ্বিজেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “আমি নিয়মিত বাগানের যত্ন নিই। নভেম্বরের শেষ দিকে কমলা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এখন চলছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে- এটা দেখে ভালোই লাগে।”
বাগান মালিক ও পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। কৃষি শিক্ষা বই থেকেই কমলা চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে কমলা গাছের চারা রোপন করি। ফলন ভালো হওয়ায় পরে সহোদরদের নিয়ে প্রায় ১শ শতক জমিতে চাষ শুরু করি। আমার বাগানের কমলার জাতটি চায়না ও দেশির মিশ্রণ। এ অঞ্চলের বেলে-দোআশ মাটি ও আবহাওয়া দার্জিলিং-হিমালয়ের সাথে কিছুটা মিল থাকায় কমলা চাষ এখানে ভালোই হচ্ছে।”
তিনি নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, “কমলা এখন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভিটামিন - সি এর চাহিদা মেটাচ্ছে। ইদানীং কমলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগ্রহী কৃষকদের গাছের চারা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।
কমলা চাষের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে এখানকার চাষিরা আরও উন্নত ফলন পাবেন এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারবেন। আমরা চাই কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে যুক্ত হোক, যাতে তাঁদের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি পায়। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে উপজেলা কৃষি বিভাগ সর্বদা প্রস্তুত।”