পঞ্চম বছরেও নাপোলি সমর্থকদের হৃদয়ে জীবন্ত ম্যারাডোনা

নাপোলি মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে কারাবাখের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এক আবেগঘন স্মরণসভা আয়োজন করেছিল। ক্লাব ও সমর্থকরা মৃত্যুবার্ষিকীর পঞ্চম বছরে কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা জানায় এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করে।
ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠান ও মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। নাপোলি সমর্থকরা তাদের প্রিয় ফুটবল আইকন ম্যারাডোনার অবদান ও কিংবদন্তি মুহূর্তগুলো স্মরণ করেন।
নাপোলির হোম গ্রাউন্ড, যা এখন স্টেডিও দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা নামে পরিচিত, সেখানে ম্যাচের আগে একটি বিশেষ ভিডিও দেখানো হয়। এতে স্টেডিয়াম ঘোষক বলেন, "পাঁচ বছর আগে সর্বকালের সেরা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।" এরপর পুরো স্টেডিয়াম ম্যারাডোনার নামে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
ম্যাচের ১০ম মিনিটে, যা ম্যারাডোনার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি স্মরণে, সমর্থকরা একসঙ্গে "একজনই ম্যারাডোনা" বলে গান গাইতে শুরু করেন। তারা পতাকা, স্কার্ফ এবং জার্সি নেড়ে এই ফুটবল ঈশ্বরের প্রতি সম্মান জানান।
শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, নাপলি শহরের বিভিন্ন স্থানেও ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিশেষ করে কোয়ার্শিনেরি স্পাগনোলিতে ম্যারাডোনার বিশাল ম্যুরালের সামনে ভক্তরা ফুল, মোমবাতি এবং ব্যানার নিয়ে জড়ো হন।
নাপোলির ম্যানেজার আন্তোনিও কন্তে কারাবাখের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়টিকে ম্যারাডোনার প্রতি উৎসর্গ করেছেন। নাপোলির মানুষের কাছে ম্যারাডোনা কেবল একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন তাদের শহরের গর্ব, পরিচয় এবং আশার প্রতীক।
ম্যারাডোনা ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত নাপোলিতে খেলেছেন এবং এই সময়ের মধ্যে ক্লাবটিকে তাদের প্রথম দুটি সেরি আ শিরোপা (১৯৮৭, ১৯৯০) এনে দেন। এর পাশাপাশি একটি কোপ্পা ইতালিয়া এবং উয়েফা কাপও জেতেন তিনি। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার অস্ত্রোপচারের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান এই কিংবদন্তি। তার মৃত্যুর পর নাপোলির স্টেডিয়ামটি তার নামে নামকরণ করা হয়।
মঙ্গলবারের এই শ্রদ্ধা নিবেদন আবারও প্রমাণ করল, সময়ের সীমানা পেরিয়ে ম্যারাডোনা এখনো জীবন্ত, নাপোলির প্রতিটি হৃদস্পন্দনে।