প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক মালয়েশিয়ার

প্রথমার্ধে ধারার বিপরীতে গোল হজম করে তিন জাতির আন্তর্জাতিক নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখলেও, স্বাগতিকরা গোল করার মতো যথেষ্ট ধারালো আক্রমণ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা প্রায় হাফ লাইনের ওপরে হাইলাইন ডিফেন্স বজায় রেখে মালয়েশিয়াকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন। বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও ঋতুপর্ণা, শামসুন্নাহাররা প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি এবং জাল কাঁপাতে ব্যর্থ হন।
ম্যাচের ধারার বিপরীতে গিয়ে মালয়েশিয়া মূলত প্রতি আক্রমণ থেকে গোলটি আদায় করে নেয়। নিজেদের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে বিরতিতে যায় সফরকারী দল। এই এক গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ ফেরার চেষ্টা কম করেনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল পরিশোধ করার পথ খুঁজে পায়নি। এই হার দিয়ে টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের।
২০১২ সালের পর এই প্রথম বুধবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলছে মেয়েরা। সবশেষ ২০১৩ সালের ২৫ মে ফিলিপাইনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে এই মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল। আর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৯২তম অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছে তিন বছর আগে। কমলাপুর স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৬-০ গোলে জিতলেও গোলশূন্য ড্র করেছিল দ্বিতীয় ম্যাচ।
৭ মিনিটে গোছানো আক্রমণে দারুণ সুযোগ তৈরি হয়। লাল সবুজের জার্সিতে অভিষেক হওয়া সুলতানার রক্ষণ চেরা পাস ধরে ডান দিক থেকে বক্সে আড়াআড়ি ক্রস বাড়িয়েছিলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ছুটে গিয়ে লাফিয়ে হেড করতে চেয়েছিলেন মনিকা চাকমা, কিন্তু পাননি বলের নাগাল। একটু পর ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেডে বল চলে যায় বাইরে।
১২ মিনিটে পায়ের ব্যথায় খুঁড়িয়ে চলতে দেখা যায় মনিকাকে। তবে দুটি নারী সাফ জয়ী এই মিডফিল্ডার মাঠ ছেড়ে যাননি। খেলা চালিয়ে গেছেন।
২৯ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। সতীর্থের লং পাস নুর আইনসাহ বিনতে মুরাদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় তার পাশেই ছিলেন ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকু। প্রতিরোধ গড়ার মূল দায়িত্বও ছিল তার, কিন্তু একই সময়ে রূপনা চাকমা পোস্ট ছেড়ে ক্লিয়ার করতে বেরিয়ে আসায় দুজনের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়। সে সুযোগে রূপনাকে ডজ দিয়ে বল বের করে নিয়ে বাম পায়ের কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন নুর।
শুরুতে আজ দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে অক্টোবরে খেলা সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন ও ডিফেন্ডার নবিরণ খাতুন। সুলতানার সঙ্গে একাদশে জায়গা পেয়েছেন মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার। বিরতির পর মুনকি, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সুলতানার জায়গা হয় বেঞ্চে। তাদের জায়গায় নামেন স্বপ্না রানী, তহুরা ও সাগরিকা। তাতেও খেলাতে তেমন পরিবর্তন হয়নি। উল্টো রক্ষণের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে মালয়েশিয়া শুরু থেকে তিনটি সুযোগ পেয়ে স্বাগতিকদের মেনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রক্ষণে তালগোল পাকিয়ে বল হারিয়ে বিপদ ডেকে এনেছিলেন শিউলি আজিম। তবে হেনরিটা জাস্টিনের দুর্বল শট সোজা রুপনার তালুতে জমা পড়ে। ৫৭ ও ৬২ মিনিটে নূর নাজওয়ার শট গোলকিপার প্রতিহত করেন। ৬ মিনিট পর সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। তহুরার সঙ্গে দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ক্রস বাড়ান ঋতুপর্ণা। কিন্তু ফাঁকায় থাকা সাগরিকার হেড হতাশা বাড়িয়ে চলে যায় পোস্টের বাইরে। পরের মিনিটে মালয়েশিয়া সুযোগ পেয়েও রুপনাকে পরাস্ত করতে পারেনি।
৭৬ মিনিটে ঋতুপর্ণা ও শামসুন্নাহার সিনিয়র উঠে যান। মামনি চাকমা ও জয়নব বিবি নামেন। তিন মিনিট পর মালয়েশিয়ার আইনসাহ বক্সে ঢুকে পড়লে শট নেওয়ার আগেই শিউলি পেছন থেকে এসে নিখুঁত ট্যাকল করে বল ক্লিয়ার করেন। ৮৫ মিনিটে তহুরা শট নিলেও সেটা জমা পড়ে গোলকিপারের গ্লাভসে।
যোগ করা সময়ে বদলি নুরফাজিরার ৬ গজের সামনে থেকে নেওয়া শট রুপনা ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে হারের ব্যবধান বাড়াতে দেননি। মনিকারাও চেষ্টা করে পারেননি সমতাসূচক গোল করতে।
আগামী মঙ্গলবার আজারবাইজানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।