রাতের আঁধারে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য, বিপদে রাজধানীবাসী

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-শনিরআখরা এলাকায় রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত চলছে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্যের এক মহোৎসব, স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এই চাঞ্চল্যকর গ্যাস বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাল্টিমিডিয়া ও ইউনাইটেড পেট্রোল পাম্প এবং ডাবলু জেড পাম্প কর্ত্বপক্ষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে “ডাবলু জেড পেট্রোল পাম্প” ও “মাল্টিমিডিয়া পেট্রোল পাম্প” নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অবৈধভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গভীর রাতে ট্রাক, পিকআপ ও গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ভ্যান নিয়ে পাম্পে প্রবেশ করছে একাধিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন কোম্পানির কর্মচারীগণ। তারা অবৈধভাবে স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে সিএনজি সরবরাহ করে বড় বড় গ্যাস ট্যাংকে ভর্তি করে নিচ্ছে। এরপর তা বিভিন্ন পরিবহন ও শিল্প কারখানায় বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে।
স্থানীয়রা জানান, এই অবৈধ ব্যবসার ফলে গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে আশেপাশের আবাসিক এলাকায়। গৃহস্থালী রান্নার চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের চোখে ধুলা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
পাম্প স্পর্ট এর স্থানীয় বাসিন্দার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাত হলেই পাম্পে অচেনা গাড়ি ঢোকে, পাইপ লাগিয়ে গ্যাস ভরা হয়। কেউ কিছু বললে হুমকি দেয়। আমরা আতঙ্কে চুপ করে থাকি।” তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
গ্যাস কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের নিয়মিত মনিটরিং টিম কাজ করছে। অবৈধ সংযোগের খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলেন, যদি এভাবে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য চলতে থাকে,তাহলে পুরো বাংলাদেশ জ্বালানি গ্যাস সংকটে পড়বে খুব শীগ্রই। তবে এ ধরনের বড় বড় লরি এবং কাবারভ্যান গাড়ি ভিতরে গ্যাস সিলিন্ডার গুলো যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—যার ফলে যে কোন সময় প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস একটি দাহ্য পদার্থ। এর অবৈধ সংযোগ ও বাণিজ্য শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি।
প্রশাসনের এখনই প্রয়োজন কঠোর অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার।