শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের মহোৎসবে প্রশাসনের অভিযান

তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের মহোৎসবে প্রশাসনের অভিযান
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে। ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ রাত ১০টায় ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তার বাজার এবং দক্ষিন খড়িবাড়ী এলাকা হতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন এবং বিক্রির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

তিস্তা নদী হতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন এবং মজুদের অপরাধে ০১ জন পাথর ব্যবসায়ীকে মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর তফসিলভুক্ত আইনে ১৫ (পনের) হাজার টাকা জরিমানা এবং একই সাথে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন সাইট হতে আনুমানিক ১২ (বার) হাজার সিএফটি পাথর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ করা হয় বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরানুজ্জামান অভিযানকালে এসময় গ্রাম পুলিশ, ডিমলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সার্বিক সহযোগিতা করে।

স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদুল হক জানান, এলাকায় দিন-রাত চলছে অবৈধ পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় শব্দের গর্জন। শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা একসঙ্গে নেমে পড়ে তিস্তার বুকে। নদীর তলা খুঁড়ে তোলা হয় পাথর। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই মহোৎসব।

স্থানীয় আরো এক বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, আমরা 'জাগো বাহে তিস্তা বাঁচই’ আন্দোলন করছি, আর অন্য দিকে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় নদীর বুক খুঁড়ে নেওয়া এই পাথর যেমন স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে, তেমনি ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

ডিমলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কোনোভাবেই অবৈধ পাথর উত্তোলন ও ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ পাথর উত্তোলন রোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন