ফরিদগঞ্জে সাবেক এমপি লায়ন হারুনের নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে এক উচ্ছ্বাসমুখর ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর, ২০২৫) বিকেলে সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল র্যালি ও সমাবেশ।
বিকেল বেলায় উপজেলা সদরের আল-মদিনা হাসপাতালের সামনে থেকে জমকালো র্যালিটি শুরু হয়। এতে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত র্যালিটি উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ করে টিএনটি চত্বরে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে যুবদল, বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো উপজেলা সদরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেও মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা এসে র্যালিতে যোগ দেন।
র্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন মো. হারুনুর রশিদ যুবদলকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির 'প্রাণশক্তি' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "আজকের এই তারুণ্যই হলো আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি।"
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "শহীদ জিয়া বিএনপি গঠনের পর যুবদলকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই যুবদলের কর্মীরা সর্বদা সুশৃঙ্খল, দেশপ্রেমিক ও আদর্শবান।"
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে লায়ন হারুনুর রশিদ আরও বলেন, "ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্র সমাজের পাশাপাশি যুবদলের নেতাকর্মীরা সাহসিকতার সাথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী লীগের কঠিন দুঃশাসনের সময়েও যুবদলের লক্ষ লক্ষ কর্মী জেল-জুলুম ও নির্যাতন ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করেছে, কিন্তু আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি।"
নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "এই ব্যাপক জনসমাগম প্রমাণ করে যে, দেশের জনগণ এখনও শহীদ জিয়ার নীতি ও আদর্শে গভীরভাবে আস্থাশীল। ফরিদগঞ্জেও যুবদল অত্যন্ত সংগঠিত ও শক্তিশালী।"
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা যুবদলের সদস্য ফজলুর রহমান।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপু, জেলা যুবদলের সদস্য সোহেল খান, পৌর বিএনপি নেতা বিল্লাল কোম্পানি ও মোখলেছুর রহমান ভুট্টো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মানিক পাটোয়ারী, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সেলিম মাহমুদ রাঢ়ি ও হারুন পাঠান, উপজেলা বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির কাজি, পৌর যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী, পেয়ার আহমেদ তালুকদার, কামরুল ইসলাম পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক শাওন পাঠান, মনির মাস্টার ও হোসেন পাটোয়ারী, ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম স্বপন ও মনির হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মহিন আহমেদ ভূঁইয়া ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ আলম, এবং ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম সুমন ও ইয়াসিন আখন্দ সুজন প্রমুখ।