বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

‘টাকার প্রভাবেই আইসিসি দখল করেছে ভারত’ বিস্ফোরক দাবি ব্রডের

‘টাকার প্রভাবেই আইসিসি দখল করেছে ভারত’  বিস্ফোরক দাবি ব্রডের
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ভারতের প্রতিপত্তি নিয়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন সাবেক আইসিসি ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড। সম্প্রতি ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ধীরগতির ওভার রেটের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে শাস্তি দেয়ার পরিবর্তে তাকে ফোন করে ‘সহনশীল’ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ক্রিস ব্রডের এই মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্টুয়ার্ট ব্রডের বাবাও মন্তব্য করে বলেছেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আর্থিক শক্তির জোরে ভারত আইসিসিতে বিশেষ সুবিধা অর্জন করতে সক্ষম।”
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অভিযোগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও আইসিসি এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, বিশ্ব ক্রিকেট মহলে ইতিমধ্যেই বিষয়টি সরগরম আলোচনা তৈরি করেছে।

ঠিক কোন ম্যাচে বা কার বিপক্ষে এই ঘটনা ঘটেছিল তা মনে করতে না পারলেও, ক্রিস ব্রড ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ শেষে ভারত তিন-চার ওভার পিছিয়ে ছিল, (স্লো ওভার রেটের কারণে) তাই তাদের জরিমানা হওয়ার কথা ছিল। আমাকে ফোন করে বলা হয়, “সহানুভূতিশীল হন, কিছু সময় বের করুন, কারণ এটা ভারত।” আমি ভাবলাম, ঠিক আছে। তারপর আমরা কোনোভাবে কিছু অতিরিক্ত সময় বের করলাম, যেন ওভার রেট জরিমানার সীমার নিচে নিয়ে আসা যায়।’

সাবেক এই ইংলিশ ওপেনার জানান, ‘পরের ম্যাচেও একই ঘটনা ঘটে। সৌরভ গাঙ্গুলী তখন দ্রুত (ওভার শেষ করার) নির্দেশ শুনছিল না। আমি ফোন করে জিজ্ঞাসা করি, এখন কী করব? তখন আমাকে বলা হয়, “শুধু তাকে (জরিমানা) করো।”’

ক্রিস ব্রড ২০০৩ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইসিসির ম্যাচ রেফারি ছিলেন। এ সময়ে তিনি ১২৩টি টেস্ট, ৩৬১টি ওয়ানডে ও ১৩৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে ২৫ টেস্ট ও ৩৪ ওয়ানডে খেলেছেন ব্রড।

তিনি মনে করেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে ম্যাচ রেফারির কাজটি এখন অনেক বেশি রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে। ব্রড বলেন, ‘ভারত এখন পুরো আইসিসি দখল করে নিয়েছে, কারণ টাকার মালিক তারা। তাই এক অর্থে আমি খুশি যে, এখন আর সেই পরিবেশে নেই। কারণ এই কাজ এখন আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক।’


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন