সিরিজ শুরু হলো হতাশার সঙ্গে

দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটিং ঝরঝরে হয়ে ওঠা বাংলাদেশ দল আবারও ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে লিটন দাস চেষ্টা করলেও ইনিংস সামলাতে পারেননি। ক্যারাবিয়ানদের সহজলভ্য মনে হওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগারদের ব্যাটিং অর্ডার তাসের মতো ভেঙে পড়েছে।
তবে শেষ দিকে নেমে ব্যাট করা কিছু ব্যাটার সংগ্রামের ছাপ রেখেছেন। তাদের ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সাহসী ইনিংস হারের ব্যবধান কমিয়ে আনলেও জয় অর্জনের যথেষ্ট ছিল না। অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬ রানের সরু ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০ নেতৃত্বে উঠে গেছে।
বাংলাদেশ দলের জন্য এখন চিন্তার বিষয়, কীভাবে ঘরের মাঠে ব্যাটিং সংকট কাটিয়ে সিরিজে সমতা আনতে হবে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৬৫ রান তুলে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে ১৬ রান যোগ হতেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৫ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ রান করে জেইডেন সিলসের বলে রোমারিও শেফার্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে ফেরেন অধিনায়ক লিটন দাস। ৮ বলে ৫ রান করে আকিল হোসেনের বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টাইগার কাপ্তান।
এরপর সাইফ হাসানও ফেরেন দ্রুতই। ৭ বলে ৮ রান করা এই ওপেনারকে শেফার্ডের ক্যাচ বানান আকিল হোসেন। শামীম হোসেন পাটওয়ারী ও নুরুল হাসান সোহানও ফিরেছেন দ্রুত। ৪ বলে ১ রান শামীম ফিরেছেন হোল্ডারের বলে বোল্ড হয়ে। আর ১০ বলে ৫ রান করা সোহানকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান পিয়েরে।
দলীয় ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ার পর বাংলাদেশের ইনিংসে হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও তানজিম হাসান সাকিব। তবে দলীয় ৭৭ রানের মাথায় ২৫ বলে ২৮ রান করে বিদায় নেন হৃদয়। এরপর নাসুম আহমেদকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন সাকিব। তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৭ বলে ৩৩ রান। শেষদিকে ১৩ বলে ২০ রান করেন নাসুম আহমেদ।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দেখেশুনেই খেলতে থাকেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার আলিক আথানাজে এবং ব্রেন্ডন কিং। উদ্বোধনী জুটিতে তারা দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৫৯ রান। নবম ওভারে ২৭ বলে ৩৪ রান করা আলিককে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন টাইগার তারকা লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন।
এরপর ব্রেন্ডন কিংয়ের সাথে যোগ দেন অধিনায়ক শাই হোপ। ১৩তম ওভারে এসে কিং থামেন দলের ৮২ রানের মাথাতে। ৩৬ বলে ৩৩ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলা এই ডানহাতি ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান পেসার তাসকিন আহমেদ। এই ডানহাতি পেসার পরের বলেই হার্ডহিটার শেরফান রাদারফোর্ডকে ফিরিয়েছেন গোল্ডেন ডাকের মাধ্যমে।
এরপররভম্যান পাওয়েল ও হোপ দলের হাল ধরেন। দুজনের ব্যাটে চড়ে দলের রানও পেরিয়েছে ১৬০। ২৮ বলে ৪৪ রান করে টিকে ছিলেন পাওয়েল। হোপ অপরাজিত ছিলেন ২৮ বলে ৪৬ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন আহমেদ। ১ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন।