বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনি প্রচারণায় ইসির ৭ নির্দেশনা

ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনি প্রচারণায় ইসির ৭ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছে। এই নির্দেশনাগুলো ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ সকল সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রযোজ্য হবে।

ইসি জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনাগুলো রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য প্রণীত আচরণ বিধিমালার অংশ হবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন ডিজিটাল প্রচারণা স্বচ্ছ, ন্যায্য ও আইনসম্মত হবে তা নিশ্চিত করা হবে।

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই নির্দেশনার লক্ষ্য হল মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার ও নেতিবাচক প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে ভোটাররা নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান যুগটাকে আমরা বলছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগ। এমন একটি যুগে এসে ফেসবুক ইউটিউবসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল নির্বাচনি প্রচারণা চালাবে এটা স্বাভাবিক। তাই কমিশনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত করছে। এসব বিধিমালার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় বিদ্বেষ ছড়াবে না বলে আমার মনে হয়।

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে যে সাতটি বিধান যুক্ত হচ্ছে সেগুলো হলো–

১. প্রার্থী, তার এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট দলকে প্রচার শুরুর আগে ব্যবহৃত সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, একাউন্ট আইডি, ই-মেইল ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

২. নির্বাচনি প্রচারণায় বা নির্বাচনসংক্রান্ত কোনও কাজে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না।

৩. ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, কারও চেহারা বিকৃতি কিংবা ভুয়া নির্বাচনসংক্রান্ত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৪. প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনও জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বা উসকানিমূলক ভাষা, কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যাবে না।

৫. নির্বাচনি স্বার্থে ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না।

৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনও তথ্য বা কনটেন্ট শেয়ার বা প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।

৭. কোনও রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের সমর্থকরা ভোটারদের বিভ্রান্ত করা, কারও চরিত্র হনন বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনও মাধ্যমে সাধারণভাবে, সম্পাদনা করে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কোনও মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতদুষ্ট, ঘৃণাত্মক, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার বা শেয়ার করতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে রোজার আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণা করা হবে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন