ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে মোটরযান পরিদর্শক হাসানের দুর্নীতি রমরমা

ঢাকা জেলা সার্কেলের মটরযান পরিদর্শক হাসানের নেতৃত্বে চলছে ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে ঘুষ দুর্নীতির আখড়া খানা। ইকুরিয়াতে সিন্ডিকেট বানিজ্য ওপেন সিক্রেট হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে হাসানের নেতৃত্বে। বিআরটিএ দালাল হিসেবে পরিচিত মিজান ও এই দপ্তরটিতে ক্যাশিয়ার হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন, মিজান, আমিনুল, কাজলসহ প্রায় ৩৫ জন দালালের আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত মটরযান পরিদর্শক হাসান।
মিজান বিআরটিএর দালাল হিসেবে পরিচিত হবার শর্তেও ক্যাশিয়ার হিসেবে বিআরটিএ বহাল তবিয়তে রয়েছেন মিজান। জুরাইন মিষ্টির দুকানের পাশে মিজান পার্সনালি অফিস নিয়ে বিআরটিএর কাজ গুলো নিজেই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে করে দেন।
ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিস ও জেলা সার্কেল অফিস গুলোতে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। সেখানে দুর্নীতির অন্যতম কারিগর মোটরযান পরিদর্শক মোঃ হাসান । এই চতুর কর্মকর্তা মাত্র কয়েক বছরের চাকুরিতে যোগদান করে গড়েছেন বিপুল টাকার সম্পদ। আছে ফ্ল্যাট গুলশান, রামপুরা, কেরানীগঞ্জ, মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে গাড়ি বাড়ি প্লট ফ্ল্যাট জমিসহ কয়েক কোটি টাকা মূল্যর বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর সঞ্চয়পত্র। এগুলো সব কিছুই তিনি তৈরি করেছেন বিআরটিএ চাকুরীর সুবাদে।
লাইসেন্স কারীদের সহযোগিতার নামে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। ড্রাইভিং লাইসেন্স গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজ করে তিনি হয়েছেন ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসের সম্রাট। তার এ কর্মকাণ্ডের অর্থ কালেকশনের জন্য আছে নিজস্ব ক্যাশিয়ার। মোঃ হাসান বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে টাকা বিআরটিএ কর্মচারীর দ্বারা গ্রহণ করে থাকেন।
অভিযোগ আছে, ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে বেশিরভাগ মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান কাজ করেছেন নৈশ প্রহরী শামীমের মাধ্যমে যদিও তিনি আর এখানে নেই তাকে বদলি করা হয়েছে অন্য অফিসে।
সূত্র জানায়, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য চালকদের ডোপ টেস্ট করাতে হয়। ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসলে, অর্থাৎ মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি লাইসেন্স পাবেন না। নৈশ প্রহরী শামিম সেই নিয়মকে পুঁজি করে ভয়াবহ বাণিজ্যে মেতেছিলেন। তিনি ২ থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডোপ টেস্ট রিপোর্ট তৈরি করে মাদকসেবীদের লাইসেন্স করিয়ে দেয়। এ সবই করে মোঃ হাসানের ইশারায়।
এছাড়া, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তনে নানা রকম ভুল-ত্রুটি বের করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মোঃ হাসান। মালিকানা পরিবর্তনে ট্রাক/বাসে ৫ হাজার টাকা, সিএনজি ২ হাজার টাকা এবং মাইক্রো/প্রাইভেট কার থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকা ঘুষ নেন মোঃ হাসান। আর গাড়ির নাম্বার প্লেটের জন্য ৩/৪ হাজার টাকা, ড্রাইভিংয়ের লার্নার কার্ডের জন্য ১৫০০ থেকে ২ হাজার নিয়ে থাকেন মোঃ হাসান।