শাকিব খান: ফরিদা পারভীন আমাদের সাংস্কৃতিক ধন

বাংলাদেশের সংগীত জগতে এক যুগান্তকারী শিল্পী ফরিদা পারভীন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে।
সুপারস্টার শাকিব খান সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। ফেসবুক পেজের স্টোরিতে তিনি লিখেছেন, লোকসংগীতের দেশবরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার কণ্ঠে ছিল বাংলার মাটি, মানুষের আত্মা ও সংস্কৃতির স্পন্দন। তিনি আমাদের লালনগীতি, নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের এক উজ্জ্বল দীপ্তি ছিলেন। তার অনন্য সাধনা ও সুরের ছোঁয়া চিরকাল আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে, রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ ফরিদা পারভীনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। এরপর তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেয়া হবে, যেখানে যোহর নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ায় মা–বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
ফরিদা পারভীন লালনগীতিকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশ-বিদেশে লালনসংগীতের প্রচারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে তিনি লালনসংগীত পরিবেশন করেছেন।
তার সাফল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা নারী কণ্ঠশিল্পী) ‘অন্ধ প্রেম’ সিনেমার ‘নিন্দার কাঁটা’ গানের জন্য এবং ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার। লালনসংগীতের পাশাপাশি ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানও জনপ্রিয় হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ‘তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ প্রভৃতি।
দৈএনকে/জে .আ