ভেন্টিলেশনে লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন

দেশবরেণ্য লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেশনে রয়েছেন, এবং ছয় সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড তাঁকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখছে। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ফুসফুসসহ অন্যান্য জটিলতায় তিনি ভুগছেন।
দুদিন আগেই পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে ফরিদা পারভীনকে। শনিবার দুপুরে ছেলে ইমাম নিমেরি উপল গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছেন ফরিদা পারভীন। সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করাতে হয়। ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। ডায়ালাইসিসের পর শারীরিক অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার অবনতি হলে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, "ফরিদা পারভীনের কিডনি ও ব্রেইন কাজ করছে না। ফুসফুসে সমস্যা আছে। হার্টে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন আছে। রক্তের সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়িয়ে গেছে। রক্তচাপ কম থাকার কারণে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।"
তিনি আরও জানান, "ফরিদা পারভীনের সার্বক্ষণিক চিকিৎসার জন্য ছয় সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। আজ থেকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে আছেন। এরপর বলা যাবে অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে।"
ছেলে ইমাম নিমেরি উল্লেখ করেন, "ভেন্টিলেশনে আছেন, এরপর মায়ের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সংকটাপন্ন।"
ফরিদা পারভীনের স্বামী গাজী আবদুল হাকিম বলেন, "সার্বিকভাবে তাঁর অবস্থা ভালো নয়। গত কয়েক মাসে চারবার আইসিইউতে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। ফুসফুস আর কিডনিজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল। উঠে দাঁড়ানোর মতো শক্তি পান না। হাঁটতেও পারেন না। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন।"
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও থাইরয়েড জটিলতায় ভুগছেন।
শিল্পী হিসেবে পরিচয়: ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত শুরু করেন। ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন। সাধক মোকসেদ আলী শাহর কাছে লালনসংগীতের তালিম নেন।
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: একুশে পদক (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩), জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার (২০০৮)। শিশুদের লালনসংগীত শিক্ষা দিতে ‘অচিন পাখি স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন।)
দৈএনকে/জে .আ