গুরুতর অসুস্থ আরশ খান, ফুসফুসের অবস্থা নাজুক

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খান সম্প্রতি নাট্যদুনিয়ায় নিজের বিশেষ পরিচয় তৈরি করেছেন। অল্প কয়েক বছরের মধ্যে তিনি দর্শকদের সামনে অসংখ্য নাটক উপহার দিয়ে ফেলেছেন, যা তাকে একটি দৃঢ় অভিনয়ধারার পরিচয় দিয়েছে। প্রতিটি চরিত্রে তার প্রাঞ্জল উপস্থিতি, স্বাভাবিক অভিনয় এবং নান্দনিক অভিনয়শৈলী দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে।
অভিনয়ের বাইরে আরশ খান সোশ্যাল মিডিয়াতেও সক্রিয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে তিনি তার ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ স্থাপন করেন। নিজের কাজ, দৈনন্দিন জীবন ও নতুন প্রকল্পের আপডেট শেয়ার করার মাধ্যমে তিনি ফ্যানদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছেন।
কেবলমাত্র অভিনয়েই সীমাবদ্ধ না থেকে, আরশ তার সোশ্যাল মিডিয়ার উপস্থিতি ব্যবহার করে নাট্য ও বিনোদন জগতের বর্তমান প্রবণতা, দর্শকপ্রিয়তা এবং নতুন উদ্যোগের প্রচারেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এই মিলিত প্রচেষ্টা তাকে ছোটপর্দার আলোচিত ও প্রিয় অভিনেতার মর্যাদা এনে দিয়েছে।
তিনি প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছেন এবং তার দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ছোটপর্দার নাট্যশিল্পে একটি স্থায়ী পদচিহ্ন রেখে চলেছেন।
আরশ খান মাঝে মধ্যেই ফেসবুকে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে থাকেন। ক্যারিয়ারের বাইরে সমসাময়িক ব্যাপারে কথা বলে কখনো কখনো শিরোনামেও উঠে আসেন। এবার ব্যক্তিজীবনের এক বদঅভ্যাসের কথা ও ক্ষতিকর দিক তুল ধরেছেন তিনি। জানিয়েছেন, ধূমপানের কারণে তার ফুসফুস প্রায় শেষ দিকে।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এক স্ট্যাটাসে আরশ খান লিখেছেন, ‘স্কুলজীবনে ফ্লেক্স করতে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিলাম। ১৯ বছর শেষ। আমার ফুসফুসও প্রায় শেষের দিকে। এখন ফ্লেক্সের বিষয় বস্তু অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সিগারেট ছাড়ার জন্য ধরলাম ভেপ। গত ১৯ বছরে ফুসফুসের যে ১২টা বেজেছিল, তার ৩ গুণ বেজেছে গত ৬ মাসে।’
তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বাস কর, সুস্থ থাকার চেয়ে বড় ফ্লেক্স আর কিছু নেই। তোমরা যারা রিসেন্টলি ধূমপান বিষয়টাকে আপন করে নেয়ার ভাবনায় আছো, তারা এই বিষয় থেকে দূরে থাকো। ধূমপায়ী ব্যক্তি ধূমপান ছাড়লে ফুসফুসে যদি বড় কোনো ক্ষত না থাকে, তবে ফুসফুস স্বাভাবিক হতে সময় লাগে ৯ মাস। তারপরও এমন কিছু ক্ষতি হয়ে যায়, যা কোনোদিন ঠিক হয় না।’
সবশেষ এ অভিনেতা লিখেছেন, ‘ভেপের দ্বারা ফুসফুসের যে ক্ষতি হয়, তার কোনো চিকিৎসা নেই, কোনো ওষুধ নেই। পুরো জীবনের জন্য ওই অংশ অকেজো। সিগারেট এমন প্রেমিকা, যাকে ছাড়লে একদম ছেড়ে দিতে হবে, সিগারেট ছাড়তে গিয়ে ভেপ নামক প্রেমিকাকে রিবাউন্ড বানানো যাবে না। ভাবিয়া করিও কাজ, আমার মতো করিয়া ভাবিয়ো না।’