কেরানীগঞ্জের একমাত্র ‘মহিলা মুক্তিযোদ্ধা’ আসলে ভুয়া!

কেরানীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একমাত্র মহিলা মুক্তিযোদ্ধা শরিফান নেছাকে ঘিরে এখন চাঞ্চল্যের ঝড় বইছে। সম্প্রতি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-তে জমা হওয়া এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তিনি আসলে একজন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’। জামুকা বিষয়টি আমলে নিয়ে শরিফান নেছার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্র জানায়, শরিফান নেছা মুক্তিযোদ্ধা নন, তবুও তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি ভাতা ভোগ করে আসছেন। শুধু ভাতা গ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের আড়ালে তার পরিবার জমি দখল, সালিশের নামে অর্থ আদায়সহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার ছিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যেই শরিফান নেছার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা বলেন, একজন ভুয়া ব্যক্তি যদি মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা ভোগ করেন, তবে আসল মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা অবমূল্যায়িত হয়। অনেক মুক্তিযোদ্ধা ভয়ে চুপ থাকলেও ধীরে ধীরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শরিফান নেছার মেয়ে মহিলা যুবলীগের নেত্রী এবং ছেলে জাল পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাদের এই রাজনৈতিক ও প্রবাসী পরিচয়ের কারণে শরিফান নেছা পরিবারসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
শরিফান নেছা জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে কেরানীগঞ্জের একমাত্র মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পান। এর ফলে আসল মুক্তিযোদ্ধারা একপ্রকার অপমানিত ও অবহেলিত হন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা চান, জামুকার শুনানিতে সত্য উদঘাটিত হোক এবং রাষ্ট্র যেন এমন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়।
এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা একবাক্যে বলছেন, যারা ভুয়া পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ভোগ করছে, তারা শুধু ইতিহাস বিকৃত করছে না, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকেও অসম্মানিত করছে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এখন সবার দৃষ্টি জামুকার শুনানির দিকে। দেখা যাক, ২৬ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে শুনানিতে সত্য কতটা বেরিয়ে আসে এবং শরিফান নেছা ও তার সহযোগীরা আইনের আওতায় আসেন কিনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে সচেতন মহল।