বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে কাভা ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ সরকারি চাকরিতে নারীদের কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিং মল ধস, আহত অর্ধশত; প্রত্যাহার সুনামি সতর্কতা পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়ে অর্থ দাবি, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিএসইসিতে চার বছরের জন্য নতুন কমিশনার হোসেন সাদাত সৌরবিদ্যুতের প্রসারের আড়ালে বাড়ছে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, তবু এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত ইসি: সিইসি
  • বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল স্নেহার

    বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল স্নেহার
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী স্নেহা চক্রবর্তী। কিন্তু ঘরে ফেরা আর হলো না। পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। বুধবার দুপুরে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

    স্নেহার অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তার পরিবার। মা জ্যোতি চক্রবর্তী বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। জ্ঞান ফিরে এলেই একটাই প্রশ্ন—"আমার স্নেহা কোথায়?"

    হাসপাতালের করিডোরজুড়ে ভিড় শিক্ষার্থী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের। সবার চোখেমুখে একই রকম বেদনার ছাপ—এক সম্ভাবনাময় জীবন থেমে যাওয়ার গভীর কষ্ট।

    সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ২০২৪-২০২৫ সেশনে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ সেশনের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চান্স পেয়েছিলেন স্নেহা। আজ বুধবার ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন তার। বাবা শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল চক্রবর্তী সকালে মেয়েকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। ভর্তির কাজ শেষে সুনামগঞ্জ শহরের বাসায় ফেরার জন্য স্নেহাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেন। এটিই ছিলো স্নেহার শেষ যাত্রা। আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। পথেই বাস-অটো দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তিনি।

    মেয়ের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মা জ্যোতি চক্রবর্তী ও ছোট ভাই সূর্য চক্রবর্তী হাসপাতালে যান। সেখানে মরদেহ দেখে জ্ঞান হারান মা। বাবা ও ভাই সূর্যের কান্নায় জরুরি বিভাগে হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়।

    সুবিপ্রবি’র শিক্ষার্থীরা বলছেন, সুনামগঞ্জ সিলেট সড়কে ফিটনেসবিহীন পরিবহণ ও চালকদের অসচেতনতার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুত জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি তাদের। কয়েকমাস পরপর চালকদের ডোপ টেস্ট ও গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার করার দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের।

    স্নেহার মামাতো ভাই মলয় চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার পিসা-পিসির (ফুফা-ফুফির) স্বপ্ন ছিল মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পায়নি স্নেহা। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে চান্স পায় স্নেহা। পরিবারের সঙ্গে থাকবে এ জন্য তাকে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। কিন্তু পরিবারের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলো ঠিকই, কিন্তু সকলকে কাঁদিয়ে শেষ বিদায় নিতে হলো তাকে।’

    সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) প্রক্টর ড. শেখ আব্দুল লতিফ বলেন, ‘স্নেহা বুধবার টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হয়েছে। সে আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েছিল। তার মৃত্যু অনাকাঙ্খিত। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

    হাইওয়ে পুলিশের মামলা পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ। এই দুর্ঘটনায় শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা জাহান খুশি, এবং শফিকুল ইসলাম (৫০) নামের আরও একজন সিএনজি যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের আরেক শিক্ষার্থী ও অটোচালক।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন