রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • আবুল বারকাতের সম্পদের হিসাব তলব করেছে দুদক পল্লবীতে পার্কিং করা পরিস্থান পরিবহনের বাসে আগুন বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দোষ দিই না: রুমিন ফারহানা গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন গ্রহণযোগ্য নয়: ১১ দল জাতিসংঘ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এআইয়ের ভুল তথ্যে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় পৃথক আধুনিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে যুক্ত হলো ৫ নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, অবকাশ থেকে আগেভাগেই ফিরলেন ট্রাম্প
  • যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত, পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি

    যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত, পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং আলোচনার পথ খুলতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে সাতটি শর্তের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, কাতার তেহরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।

    রেজাই কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, তেহরান কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রকাশ্যে জানানো তিনটি শর্ত হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও স্বাধীনভাবে একই তিনটি দাবির কথা জানিয়েছে।

    তবে ইরানের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগে ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ বন্ধের দাবিও জানিয়ে আসছিল। তবে সাতটি শর্তের সম্পূর্ণ সরকারি তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিত

    ইরানের এসব শর্তের মধ্যে এমন সময় এসেছে, যখন দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি কূটনীতির পথও খোলা রেখেছেন।

    গত বৃহস্পতিবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলা আবার শুরু করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি একটি বড় সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন। তিনি ইরানি সরকারকে আক্রমণ করে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

    একই সময়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তি চায়। তবে তেহরান আলোচনার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।

    রেজাই বলেন, শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে তেহরানের অবস্থান মেনে নিতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান বর্তমান যুদ্ধকে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করে প্রস্তুত রয়েছে। ইরান মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করেছে এবং সম্প্রতি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

    পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন রেজাই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ভিত্তি দিতে পারে।

    তবে রেজাই জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং ওয়াশিংটনের আচরণের ওপর তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

    তিনি বলেন, ইরান এখনো দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জারি করা ধর্মীয় নির্দেশনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওই নির্দেশনায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান তার ঘোষিত পারমাণবিক নীতিতে এখনো কোনো পরিবর্তন আনেনি। তবে ভবিষ্যতে কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

    আইএইএর সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা

    রেজাইয়ের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    চলতি মাসে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদ ইরানের পারমাণবিক বিষয়ে অমান্যতার বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা ও পারমাণবিক উপাদান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং প্রবেশাধিকার তাদের কাছে নেই।

    তেহরান এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়।

    যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

    এদিকে আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার ওপরে রয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, নির্বাচনী রাজনীতি তার ইরান নীতিকে প্রভাবিত করে না। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বেশি জ্বালানি খরচের মতো মূল্য দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

    তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট শনিবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের কাছ থেকে পরিস্থিতি নিয়ে আরও হতাশাজনক নির্বাচনী জরিপের তথ্য শুনেছেন।

    প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কিছু আলোচনায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের জন্য তৈরি হওয়া কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এমন একজন ব্যক্তি এ ধারণার বিরোধিতা করেছেন যে প্রেসিডেন্ট এ জন্য নিজের ওপর দায় নিচ্ছেন।

    ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার সঙ্গে আরও সরাসরি কথা বলছেন। পাশাপাশি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে নিজের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছেন তিনি।

    তবে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির দাম এবং ইয়েমেনে বিস্তৃত হতে থাকা সংঘাত শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন