ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে যুক্ত হলো ৫ নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে আধুনিক প্রযুক্তির পাঁচটি নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার ভেহিক্যাল যুক্ত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর প্রস্তাবিত গাবতলী কাঁচাবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব যান উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীকে আধুনিক, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ডিএনসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী ইতালি থেকে সংগৃহীত পাঁচটি নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার ভেহিক্যাল আজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে যুক্ত করা হলো।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আধুনিক এসব যান দিয়ে দ্রুত সময়ে শহর থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে সরাসরি ল্যান্ডফিলে নেওয়া সম্ভব হবে। উন্নত কন্টেইনার লোড ও আনলোডের সুবিধা থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজও সহজ হবে।
তিনি জানান, শুধু এই পাঁচটি যান নয়, বর্জ্য পরিবহন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শিগগিরই ডিএনসিসির বহরে আরও ১০টি নতুন ভেহিক্যাল যুক্ত করা হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে চার হাজার টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ কাজে ড্রাম ট্রাক, খোলা ট্রাক, কন্টেইনার ক্যারিয়ার ও কমপেক্টরসহ প্রতিদিন প্রায় ১৮০ থেকে ২০০টি যান নিয়োজিত থাকে।
বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোববার ভোর ৪টা থেকে টানা বৃষ্টি হলেও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং আগাম ড্রেনেজ সংস্কারের কারণে অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত রয়েছে। গত দুই মাস আগে ভারী বর্ষণের সময় যেসব স্থানে পানি জমেছিল, সেসব পয়েন্টে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
নগরবাসীর প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই নগরী সবার। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তবে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই সচেতন হয়ে সহযোগিতা করলে একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।