রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ফ্রিজে মুরগির মাংস কতদিন নিরাপদ থাকে, নষ্ট হওয়ার লক্ষণ কী আবুল বারকাতের সম্পদের হিসাব তলব করেছে দুদক পল্লবীতে পার্কিং করা পরিস্থান পরিবহনের বাসে আগুন বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দোষ দিই না: রুমিন ফারহানা গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন গ্রহণযোগ্য নয়: ১১ দল জাতিসংঘ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এআইয়ের ভুল তথ্যে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় পৃথক আধুনিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বহরে যুক্ত হলো ৫ নতুন কন্টেইনার ক্যারিয়ার
  • এআইয়ের ভুল তথ্যে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র

    এআইয়ের ভুল তথ্যে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চলতি বছরের বসন্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলাকালে একটি চীনা কার্গো জাহাজকে ঘিরে বড় ধরনের ভুলের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পৌঁছায়। এতে দাবি করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা চীনের একটি জাহাজে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পরিবহন করা হচ্ছে।

    প্রতিবেদন পাওয়ার পর জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করার প্রস্তুতি নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রগুলোর দুজন জানান, জাহাজটিতে ওঠার জন্য মার্কিন সেনাদের একটি সশস্ত্র দল প্রস্তুত ছিল। এ সময় আকাশে মার্কিন সামরিক বিমানও অবস্থান করছিল বলে অন্তত দুটি সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযান শুরুর আগে প্রতিবেদনটির তথ্য আরও গভীরভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    তদন্ত করতে গিয়ে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, বিশেষ অভিযানের দায়িত্বে থাকা এক বিশ্লেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। যে চ্যাটবট ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি চীনা জাহাজে থাকা পণ্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিল।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বিশ্লেষক চীনা জাহাজটির পণ্যের তালিকা নিয়ে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে একটি চ্যাটবটকে প্রশ্ন করেছিলেন। তথ্যের একটি অংশ এসেছিল হাওয়াইভিত্তিক মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক থেকে। চ্যাটবটটি উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সরকারি সংরক্ষণাগারে থাকা গোপন সংকেতভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে জাহাজে কী ধরনের উপকরণ ছিল, সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

    এরপর বিশ্লেষক এআইয়ের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করেন। সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদনটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়ায় সেটি বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠানো হয়।

    বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের ভাষ্য, এআই দিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি ছিল ‘পুরোপুরি মিথ্যা’। তাঁর মতে, ভুল তথ্যের কারণে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ‘আরেকটু হলে যুদ্ধ বেধে যাচ্ছিল’।

    তবে চীনা জাহাজটিতে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের পণ্য ছিল, তা সিএনএন জানতে পারেনি।

    সামরিক কাজে বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বর্তমানে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়াচ্ছে। বাজেট, রসদ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মতো সাধারণ কাজেও প্রযুক্তিটির ব্যবহার করা হচ্ছে।

    যুদ্ধের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সামরিক বাহিনীতে এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে কিংবা কোথায় সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে—এ ধরনের সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে এআই সহায়তা করতে পারে।

    তবে চীনা জাহাজের ঘটনাটি সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। ভুল বা বিকৃত তথ্যের ভিত্তিতে এআই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছালে এবং সেই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে যাচাই না করে ব্যবহার করা হলে তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ব্যবহৃত এআই ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন, এমন সাবেক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত এআই সরঞ্জামগুলোর বেশির ভাগই বাণিজ্যিক প্রযুক্তির আদলে তৈরি। পরে সেগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে থাকতে চায় না। কারণ ভবিষ্যতে চীন বা অন্য কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাত হলে প্রতিপক্ষ এআই ব্যবহারে এগিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

    দ্রুত ব্যবহারের কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত জানুয়ারিতে তাঁর দপ্তরের ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাকসেলারেশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশ করেন। সামরিক বাহিনীতে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়।

    কৌশলটি ঘোষণার সময় হেগসেথ বলেছিলেন, এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো, আমলাতান্ত্রিক বাধা কমানো এবং বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

    তদন্তের আহ্বান সিনেটরদের

    চীনা জাহাজে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

    ডেমোক্রেটিক পার্টির একদল সিনেটর সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এআই ব্যবহারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পরিকল্পনায় যেসব ভুল হয়েছে, সেগুলোও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    শনিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটনকে পাঠানো এক চিঠিতে সিনেটররা চীনা জাহাজের ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেন।

    চিঠিতে তাঁরা বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাঁদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহারের গতি বাড়ানো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে কার্যকর তদারকির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন