শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সংবাদমাধ্যম তিনটির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন।

ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ‘কল্পকাহিনি ও মিথ্যা’ প্রতিবেদন প্রকাশের সুযোগ সংবাদমাধ্যমগুলোর থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ইঙ্গিত দেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের নামও উল্লেখ করেন।

তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউসে কাজ করতে দেখা যায়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, শনিবার থেকে তাদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; বরং গত কয়েক বছরের সংবাদ প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়েই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট পরিধিও তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত সংবাদমাধ্যমের অধিকার সুরক্ষিত। এ কারণে ট্রাম্পের পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন কয়েকজন সাংবিধানিক অধিকার বিশেষজ্ঞ।

ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের প্রধান আইনজীবী সেথ স্টার্ন বলেন, সরকারের সমালোচনার কারণে সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামিল জাফর বলেন, কোনো সাংবাদিকের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ার কারণে প্রেসিডেন্ট তাকে শাস্তি দিতে পারেন না। তবে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রেস পুলে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কিছু এখতিয়ার রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ব্যাপকতা ও ধরন অনুযায়ী এর আইনি বৈধতার প্রশ্নও ভিন্ন হতে পারে।

সিএনএন এক বিবৃতিতে তাদের হোয়াইট হাউস কাভার করা সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সংবিধানের অধীনে সরকারি বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার তাদের রয়েছে। পলিটিকো জানিয়েছে, তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরবে এবং প্রথম সংশোধনীর অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেবে। এমএস নাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। প্রথম মেয়াদেও তার প্রশাসন সিএনএনের সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টা ও প্লেবয় প্রতিনিধি ব্রায়ান কারেমের প্রেস পাস বাতিল বা স্থগিতের উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে আদালতের আদেশে তাদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসার পরও ট্রাম্প বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে আসছেন। গত বছর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকেও হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস পুল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের পছন্দের ‘গালফ অব আমেরিকা’ নাম ব্যবহার না করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সে সময় এপি জানিয়েছিল।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন