এক ম্যাচে ৫ ছক্কা, মিরাজের দারুণ সিপিএল যাত্রার শেষ হতাশায়

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) মেহেদী হাসান মিরাজের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। তবে শেষটা হলো হতাশায়। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এক ম্যাচেই ৫ ছক্কা হজম করেছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ২০৬ রানের বড় পুঁজি গড়েও জিততে পারেনি তার দল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। জ্যামাইকা কিংসম্যানের কাছে ৫ উইকেটে হেরে ফাইনালের এক ধাপ আগেই বিদায় নিয়েছে গায়ানা।
ব্রিজটাউনে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে গায়ানা। শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পায় তারা। মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন হেটমায়ার। তার সঙ্গে শেই হোপের ৪০ ও কোয়েন্টিন স্যাম্পসনের ঝোড়ো ২৯ রানের ইনিংসে ২০৬ রানের লড়াকু পুঁজি দাঁড় করায় গায়ানা।
২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে জ্যামাইকা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মিরাজকে বোলিংয়ে আনেন গায়ানার অধিনায়ক ইমরান তাহির। দুই বাঁহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে ম্যাচআপ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল তার। তবে সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি।
নিজের প্রথম ওভারেই মা’জ সাদাকাতের ব্যাট থেকে দুটি ছক্কা ও একটি চার হজম করেন মিরাজ। দ্বিতীয় ওভারে দেন আরও একটি ছক্কা। পরে ইনিংসের ১২তম ওভারে ফিরে এসে আরও দুটি ছক্কা হজম করেন তিনি। ফলে ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন মিরাজ।
অথচ শেষ কয়েক ম্যাচে গায়ানার বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মিরাজই। আগের চার ম্যাচে তার শিকার ছিল ৯ উইকেট। তাই ২০৬ রানের পুঁজি নিয়েও তার কাছ থেকে রান আটকে রাখার প্রত্যাশা ছিল দলের। কিন্তু এদিন সেটি করতে পারেননি তিনি।
গায়ানার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন ডুয়েইন প্রিটোরিয়াস। ৩৭ রান দিয়ে তিনি নেন দুটি উইকেট। তবে বাকি বোলারদের প্রায় সবাই ওভারপ্রতি ১০ রানের বেশি করে খরচ করেন।
জ্যামাইকার হয়ে মা’জ সাদাকাত ১৭ বলে ৪১ রান করে দলকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন। এরপর কেসি কার্টির ৫৬, কার্ক ম্যাকেঞ্জির ৩৪, সাইম আইয়ুবের ২৩ এবং রভম্যান পাওয়েলের মাত্র ১৭ বলে অপরাজিত ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে জয়ের পথে এগিয়ে যায় জ্যামাইকা। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
এই হারের ফলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার থেকেই এবারের সিপিএল অভিযান শেষ হলো গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের। আর দারুণ পারফরম্যান্সে আলোচনায় থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের সিপিএল যাত্রারও শেষ হলো হতাশার ম্যাচ দিয়ে।