বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মক্কায় হামলার নিন্দা জানানো নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব: শফিকুর রহমান র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে যাত্রা শুরু এসআরবির অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প : ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন মৃত্যুর ঘটনায় দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নয় মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট ১৩ সিটি কর্পোরেশনে স্বাস্থ্যসেবায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস
  • গাজা তথ্যচিত্র: নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিল চান ইসরাইলি মন্ত্রী

    গাজা তথ্যচিত্র: নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিল চান ইসরাইলি মন্ত্রী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে নির্মিত অস্কারজয়ী ইসরাইলি তথ্যচিত্র ‘নাজা’-এর দুই সহ-নির্মাতার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার। নির্মাতাদের বিরুদ্ধে তিনি ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছেন।

    ইউভাল আব্রাহাম ও র‌্যাচেল সোর পরিচালিত ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্রটি ইসরাইলি বাহিনীর গাজা অভিযান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি। তথ্যচিত্রটিতে ২৪ জন পরিচয় প্রকাশ না করা ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার রয়েছে।

    সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই অভিযানে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু। জাতিসংঘ এসব পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে ৭ অক্টোবরের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন।

    ‘নাজা’ নামটি হিব্রু সামরিক পরিভাষা থেকে নেওয়া, যার অর্থ সামরিক অভিযানে ‘পার্শ্ববর্তী ক্ষয়ক্ষতি’। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যচিত্রটিতে গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। একজন সাক্ষাৎকারদাতা দাবি করেছেন, একটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ৫০০ জনকে হত্যার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্যচিত্রটির উপকরণ কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, এর পেছনে কারা রয়েছে এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সেগুলো সংগ্রহ বা প্রকাশের মাধ্যমে ‘শত্রুকে সহায়তা’ করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না, তা তদন্তের অনুরোধ করেছেন।

    ইসরাইলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জোহার বলেন, তথ্যচিত্রে উপস্থাপিত দাবিগুলো ‘মিথ্যা ও বিকৃত’। তিনি ইসরাইলি সেনা ও রাষ্ট্রকে ইচ্ছাকৃত অপরাধের জন্য দায়ী হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করেন। নাগরিকত্ব আইনের আওতায় ‘রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ভঙ্গের’ কারণে নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা ইসরাইলে খুব কমই প্রয়োগ হয়েছে।

    এ বিষয়ে এখনো আব্রাহাম ও সোরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে তারা ‘নো আদার ল্যান্ড’ তথ্যচিত্রের জন্য অস্কার জিতেছিলেন। ছবিটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা নিয়ে নির্মিত।

    গত বৃহস্পতিবার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রিমিয়ার হয়। সেখানে ছবিটি ২৫ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন পায় এবং বিশেষ জুরি পুরস্কার অর্জন করে। ছবিটি এখনো সাধারণ দর্শকের জন্য মুক্তি পায়নি।

    ইসরাইলি বাহিনী তথ্যচিত্রটির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ছবিটি এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। প্রচারণামূলক অংশের ভিত্তিতে তাদের দাবি, এতে আইডিএফ ও এর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর ও মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবিটি পুরোপুরি দেখার সুযোগ দিতে নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইডিএফ, যাতে অভিযোগগুলো ‘তথ্যভিত্তিক ও পেশাদারভাবে’ পর্যালোচনা করা যায়।

    তথ্যচিত্রটি নিয়ে ইসরাইলের আরও কয়েকজন রাজনীতিক সমালোচনা করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এটিকে ‘ভয়াবহ রক্তের অপবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান নির্মাতাদের ‘ইসরাইলবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    অন্যদিকে ৭০০-এর বেশি চলচ্চিত্রশিল্পী নির্মাতাদের সমর্থনে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। সেখানে তারা নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ‘উসকানি ও অপমানের প্রচারণা’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। ইসরাইলি অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার শ্লোমি এলকাবেটজ বলেন, তথ্যচিত্রে যে প্রশ্নগুলো তোলা হয়েছে, সেগুলো ‘নীরব করে দেওয়ার বদলে পরীক্ষা করে দেখা উচিত’।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন