৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ইউএই ভিসা বাতিল, বিপাকে প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভিসা বাতিল হওয়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি বিপাকে পড়েছেন। ছুটিতে দেশে এসে তাদের অনেকেই আর কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। তবে কী কারণে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে ইউএই কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা সমস্যা সমাধানে সরকারকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই দেশে অবস্থানকালে ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের বার্তার মাধ্যমে তারা ভিসা বাতিলের খবর পেয়েছেন। কারও ক্ষেত্রে আমিরাতে থাকা স্পন্সররাও এ বিষয়ে নোটিশ পেয়েছেন।
আবুল কালাম আজাদ নামে এক প্রবাসী জানান, তিনি ২৭ বছর ধরে ইউএইতে বসবাস করছেন। গত ৭ এপ্রিল ছুটিতে দেশে আসেন। পরে ২৪ জুলাই ই-মেইলে তার ভিসা বাতিলের কথা জানানো হয়। তবে সেখানে ভিসা বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিসা বাতিল হওয়া প্রবাসীরা সমস্যা সমাধানের দাবিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে প্রায় ৩৫০ বাংলাদেশি অংশ নেন। তারা জানান, কারও বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনি সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এক প্রবাসী বলেন, ইউএইতে তার দুটি ব্যবসা রয়েছে এবং স্ত্রীও সেখানে থাকেন। ভিসা বাতিল হওয়ায় তিনি ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর গত ৭ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে জানান, ইউএই ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে। পরে মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা পুনর্বাসন ও সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা, বিকল্প দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং আগের কর্মস্থলে ফিরিয়ে নিতে ইউএই সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তারও দাবি করেছেন।
সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশির চেয়ারম্যান এম এস শেকিল চৌধুরীর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ইউএই কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই বাড়িয়ে থাকতে পারে। ভিসা নবায়ন, কাগজপত্রের সমস্যা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ডসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এখন বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে এসব কারণই ভিসা বাতিলের সরাসরি কারণ—এমনটা বলা যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেকিল চৌধুরী বলেন, সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইউএইর যাচাই-বাছাইয়ের মাত্রা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।