২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরানোর দাবি ছাত্রদলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। দাবি বাস্তবায়ন না হলে উপাচার্যের কার্যালয় ও ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানায় ছাত্রদল। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিং করেন সংগঠনটির নেতারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ডাকসুর সংগ্রহশালায় এমন একজন ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে, যার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা ডাকসুর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তার দাবি, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইতিহাসের সঙ্গে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন সাংঘর্ষিক।
নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর সভাপতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবং বিতর্কিত ছবিগুলো অপসারণ না করলে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছাত্রদল গণতান্ত্রিকভাবে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেছে। এ সময় একটি বিশেষ গোষ্ঠীর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাখোশ হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ডাকসু ভবনের সংগ্রহশালা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে ‘বিতর্কিত’ দুজন ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নৈতিকভাবে স্খলনজনিত এবং ছাত্রদল তা মেনে নিতে পারে না।
এ কারণে ডাকসুর সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ছবিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান গণেশ চন্দ্র রায় সাহস।
তিনি বলেন, “আমরা এরই মধ্যে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি দুটি সরানো না হলে উপাচার্যের কার্যালয় ও ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”