অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার: টাঙ্গাইলে আরও ৪ জন গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন টাঙ্গাইল সদর থানার বড় বাশালিয়া এলাকার বাবলু মিয়া (২৮), বাগীল এলাকার মো. মনির হোসেন (৩০), সখিপুরের জেলখানা মোড় এলাকার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) এবং তালেপাবাদ এলাকার শামীম আল মামুন (২৯)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি আভিযানিক দল রোববার রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়া সাইটে ব্যবহারের জন্য নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের অ্যাডমিন সদস্যদের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিআইডি দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইট সক্রিয় থাকার তথ্য পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে। গত ১৭ মে মামলাটি করা হয়।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাঁদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে ব্যবহার করছিলেন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচার করা হতো। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে একই মামলায় গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল রানা (৩২) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
গত ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬) নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া গত ১২ জুলাই নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮) এবং ১৯ আগস্ট রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে সৈয়দ জামান (২৭) ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮) নামে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি দেশের জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করার এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে।