রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ইউক্রেনের অস্ত্রভাণ্ডারে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত ৩৭ জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবি জানাল অল্টারনেটিভস গুমের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না সালাহউদ্দিন ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নেপাল–তিব্বতে নিহত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজার রংপুরে চার খুন: পুলিশের তদন্তে ১৯ প্রশ্ন, আসামিদের পক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের রামসু বাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সেনাবাহিনী, সিন্দুকছড়ি জোনের বিশেষ সহায়তা পরিকল্পনা রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে ১৯১ দেশের ১০ হাজার তরুণ, অংশগ্রহণকারী বাছাই সম্পন্ন ডিবিতে ফোন করে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের ইচ্ছা, মিরপুরে বাড়ি ঘিরে অভিযান গুম-খুন ও জুলাই শহীদদের পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি: বিশ্বব্যাংক
  • ডেঙ্গুতে ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ প্রাণহানি খুলনায়

    ডেঙ্গুতে ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ প্রাণহানি খুলনায়
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৫৯০ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। রোগী ও মৃত্যুর বড় অংশ রাজধানীকেন্দ্রিক হলেও ঢাকার বাইরে এ বছর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে খুলনা বিভাগে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর প্রায় ১৯ শতাংশই এই বিভাগে। এ সময়ে খুলনা বিভাগে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ভৌগোলিক চিত্রে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু খুলনায়

    চলতি বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হিসাবে খুলনা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। এ বিভাগে মারা যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় খুলনা ও আশপাশের জেলায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    খুলনার পর ঢাকার বাইরে প্রাণহানির হিসাবে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ। দুই বিভাগেই এ বছর আটজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    বরিশাল বিভাগে মৃত আটজনের মধ্যে ছয়জন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ছাড়া পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৪৪৯ জন।

    ময়মনসিংহ বিভাগে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে সাতজন ময়মনসিংহ জেলায় এবং একজন শেরপুরে। ময়মনসিংহে মারা যাওয়া সাতজনই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৯৬ জনের।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    বদলাচ্ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণের ভৌগোলিক চিত্র

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক রোগ নয়। গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু সংক্রমণের তীব্রতা এবং মৃত্যুর কেন্দ্র পরিবর্তিত হচ্ছে।

    আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এ বছর ঢাকার বাইরে খুলনা অঞ্চলে মৃত্যুর হার বেশি দেখা যাচ্ছে। বর্ষার শেষভাগে এডিস মশার প্রজনন বাড়তে পারে। ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি এবং দ্রুত রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।

    আগের বছরগুলোতেও বদলেছে সংক্রমণের কেন্দ্র

    ডেঙ্গুর গত কয়েক বছরের তথ্যেও সংক্রমণের ভৌগোলিক পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে বরিশাল ও চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। ওই বছর বরিশালে ৩৮ হাজার ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০৯ জনের মৃত্যু হয়।

    পরবর্তী বছরগুলোতেও ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা গেছে। চলতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় খুলনা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই হাজারের বেশি

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ৩৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ৮০ জন।

    বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ৬১৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ছাড়া খুলনায় ৫৭৫, বরিশালে ৩৫৬, ময়মনসিংহে ১৭৯, চট্টগ্রামে ১৬৩, রাজশাহীতে ১৫৩, রংপুরে ৩০ এবং সিলেট বিভাগে সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৫৯০ জন। তাদের মধ্যে ৩০ হাজার ৪২২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    পুরুষ আক্রান্ত বেশি, মৃত্যুহার নারীর বেশি

    চলতি বছর ডেঙ্গু শনাক্তের হিসাবে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেশি। মোট আক্রান্ত ৩২ হাজার ৫৯০ জনের মধ্যে পুরুষ ২০ হাজার ৩৮ জন, যা মোট রোগীর ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ। নারী রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৩৫৫, যা ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৮৮ জনের মধ্যে ৫১ জন নারী এবং ৩৬ জন পুরুষ। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেপ্টেম্বরে এডিস মশার প্রজনন ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় এখনই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর দ্রুত শনাক্তকরণ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন