রাজনীতির শিকড় থেকে বেড়ে উঠা একজন আন্দালিভ রহমান পার্থ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ একটি আলোচিত ও পরিচিত নাম। স্বচ্ছ রাজনীতি,মানবিক মূল্যবোধ,ন্যায়পরায়নতা আর সহজ জীবনযাপন নীতিই তার আদর্শ। অত্যন্ত তরুন বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তিনি হয়ে উঠেন বেশ আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য থাকাকালীণ তৎজমানার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে দাঁড়িয়ে আ'লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দূর্ণীতি,দূর্বৃত্তায়ন আর রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের ফিরিস্তি তুলে ধরে দেশব্যাপী তিনি তরুন, যুবক, ছাত্র ও শ্রেণীপেশার মানুষের কাছে ব্যাপক সমাদ্রিত হয়ে উঠেন।
রাজনীতির উত্তাল ও কঠিন দিনগুলোতে সাহসী এ যুবক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের আষ্টেপৃষ্টে থেকে যোগ্যতা এবং রাজনীতির পরিপক্বতা অর্জন করেন। নিজের মেধা,বুদ্ধিমত্ত্বা এবং অসম বিচক্ষণতার বদৌলতে জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত অংশিদার হিসেবে আত্মপ্রকাশের কৃতিত্ব অর্জন করেন-আন্দালিভ রহমান পার্থ। তারই ধারাবাহিকতায় নীতি আর আদর্শবোধ তাকে আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবিচল আস্থার প্রতিক হিসেবে সান্নিধ্য লাভ করেন। তার শুভাখাঙ্খীদের মতে,ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সদালাপী,সৎ,নির্লোভ,নির্মোহ ও সজ্জন মানুষ। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য,সততা আর সৃষ্টিশীল সু-চিন্তা-ই হচ্ছ তার একমাত্র পাথেয়; এমনটিই বিশ্বাস ও লালন করেন-আজকের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
জম্ম ও বংশ:
বংশীয় ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, এ নেতার পূর্বসূরীদের ধারাবাহিক ইতিবৃত্ত। আন্দালিভ রহমান পার্থ ২০ এপ্রিল ১৯৭৪ খ্রীষ্টাব্দের বাংলাদেশের অবিভক্ত বরিশাল জেলার ভোলা দ্বীপের একটি সম্ভ্রান্ত বাঙ্গালী মুসলমান খান্দানে জন্মগ্রহণ করেন, যারা বালিয়ার তালুকদার বংশ হিসাবে পরিচিত। তাঁর পূর্বপুরুষ মুঙ্গা খাঁ আঠারো শতাব্দীতে আফগানিস্তানের গরমশির হতে বৃহত্তর বরিশালের সালুকা গাঁওয়ে বসবাস শুরু করেন। মুঙ্গা খাঁর ছেলে শেখ মহম্মদ মোগলদের রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন তাই শিকদার খেতাব লাভ করেছিলেন। ভোলার বালিয়া ও গজারিয়া এলাকায় খারিজা তালুক পেয়ে খান্দানটি সালুকা হতে বালিয়ায় আসে। পার্থের বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন-বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার মা শেখ রেবা রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের ভাইঝি ও শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বোন। আন্দালিভ রহমান পার্থের নসবনামা হচ্ছেঃ আন্দালিভ রহমান পার্থ ইবনে নাজিউর রহমান মঞ্জুর ইবনে বজলুর রহমান তালুকদার ইবনে আব্দুর রহমান তালুকদার ইবনে আরব আলী শিকদার ইবনে শেখ বাখর শিকদার ইবনে শেখ দুবিল খাঁ ইবনে শুকুর মহম্মদ শিকদার ইবনে শেখ মহম্মদ শিকদার ইবনে মুঙ্গা খাঁ। মঞ্জুরের ভাই ড. আজিজুর রহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী।
প্রারম্ভিক জীবন:
আন্দালিভ রহমান পার্থ একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী এবং সংসদ সদস্য। তিনি ২০ এপ্রিল ১৯৭৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব এবং কৈশোরকাল কেটেছে বাংলাদেশে। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি দেশের বাইরে গমন করেন। পরবর্তীতে, তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন।
শিক্ষা জীবন :
আন্দালিব রহমান পার্থ এলএলবি করার জন্য লন্ডনে যাওয়ার আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত প্রথমে সেন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। স্কুল জীবনে তিনি ছিলেন একজন প্রখর মেধাবী ছাত্র৷
কর্মজীবন:
তিনি ১৯৯৭ সালে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর দেশে ফিরে আসেন এবং প্রয়াত ব্যারিস্টার রফিকুল হকের তত্ত্বাবধানে একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগদান করেন। ৩ বছর তার সাথে আইনজীবি হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন এবং ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ স্কুল অব ল এর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন : আন্দালিভ রহমান পার্থ ব্যক্তিগত জীবনে দুই কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তানের জনক। এরা হলো- মাহাম সানজিদা রহমান, মাদিনা বিনতে আন্দালিভ রহমান এবং একমাত্র পুত্র সন্তান।
রাজনৈতিক জীবন:
২০০০ সাল থেকে আন্দালিভ রহমান পার্থ তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর সাথে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে তার বাবার মৃত্যু হলে আন্দালিভ রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার দল বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচন বয়কট করে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হন। তিনি ঢাকা-১৭ ও ভোলা-১ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
এরপর ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হন তিনি। পাশাপাশি তিনি বর্তমান পার্লামেন্টে আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক সম্পর্কিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।