আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ততায় জনগণ শঙ্কিত: জামায়াত আমির

দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।
একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে সাম্প্রতিক কয়েকটি অপরাধের ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকায় এক চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি করে পরবর্তী সময়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ময়মনসিংহেও এক পশুচিকিৎসকের কাছে একইভাবে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পর রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনা ঘটল।
এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, জনগণ উদ্বিগ্ন এবং তারা এসব ঘটনার দ্রুত সুরাহা চায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, বাহিনীগুলোর নির্লিপ্ততা জনগণের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করছে। বিশেষ করে রংপুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একটার পর একটা অপরাধ সংঘটিত হলেও ভুক্তভোগীরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে দেশের মানুষকে অপরাধ ও সহিংসতা থেকে রক্ষায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন জামায়াত আমির।