বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • থাইল্যান্ডের স্কুলে গুলি: সহিংস কনটেন্ট দেখত ১৪ বছরের কিশোর

    থাইল্যান্ডের স্কুলে গুলি:  সহিংস কনটেন্ট দেখত ১৪ বছরের কিশোর
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বাইরে একটি স্কুলে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংস বিভিন্ন কনটেন্ট দেখত বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রতিও তার দীর্ঘদিনের আগ্রহ ছিল।

    রোববার পুলিশ জানায়, গত বছর ওই কিশোরের কাছ থেকে একটি এয়ারগান জব্দ করেছিলেন স্কুলের এক শিক্ষক। শুক্রবারের হামলার পর তদন্তে বিষয়টি আবার সামনে আসে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলে হামলার আগে কিশোরটি তার বাড়িতে দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর স্কুলে গিয়ে আরও ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে কিশোরটিও গুলিবিদ্ধ হয়।

    এ ঘটনায় মোট আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোরটির দুই দাদা-দাদি এবং স্কুলের ছয়জন রয়েছেন। হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের পর এটিকে থাইল্যান্ডের অন্যতম ভয়াবহ গুলির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রাদেশিক পুলিশ অঞ্চল-১-এর উপকমিশনার আত্থাপোল আনুসিত জানান, এখন পর্যন্ত ১৭ জনের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, প্রায় এক থেকে দুই বছর ধরে কিশোরটির মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ ছিল।

    তদন্তে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সহিংস কনটেন্ট দেখত সে। তার ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করেও এ ধরনের কনটেন্ট দেখার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

    তবে নিয়মিত গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ বা অনুশীলন করত—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা আত্থাপোল।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলির খোসা, একটি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোরটির ব্যাগ থেকেও একটি ছুরি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, গত বছর একটি বিবি বন্দুক নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল কিশোরটি। এটি এক ধরনের এয়ারগান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্কুলের এক শিক্ষক তখন বন্দুকটি জব্দ করেন।

    কিশোরটির পারিবারিক পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর প্রায় ১২ বছর ধরে সে দাদা-দাদির সঙ্গে বসবাস করছিল। তবে তার পারিবারিক পরিস্থিতির সঙ্গে হামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এদিকে হামলার পর স্কুলগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী তিন মাসের মধ্যে স্কুলগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ও স্কুলের সংশ্লিষ্টদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

    জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্কুলগুলোতে নিয়মিত মহড়ার আয়োজনের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি স্কুলে বুলিং ও ভয়ভীতি বন্ধ এবং শিক্ষার্থীরা যাতে বিপজ্জনক কোনো জিনিস নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হবে।

    ভয়াবহ এই হামলার পর থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানো বন্ধ করা এবং স্কুলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্কুলের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ দ্রুত শনাক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন