৫ আগস্টের পর বিশ্ব প্রতিক্রিয়া: হাসিনার দেশত্যাগে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের অবস্থান

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে লাখো মানুষের সমাগমের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল পৃথক প্রতিক্রিয়া জানায়।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
শেখ হাসিনা ভারতে পৌঁছানোর পর নয়াদিল্লি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক মন্তব্য করেনি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান
যুক্তরাজ্য শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং মানবাধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং আটক আন্দোলনকারীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার দিতে হবে।
সে সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান।
জার্মানি
জার্মানি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক উত্তরণের আহ্বান জানায়। সংস্থাটি মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। তৎকালীন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখা জরুরি।
হোয়াইট হাউজও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানায় এবং সংযম প্রদর্শনের জন্য সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে।
কানাডা
কানাডার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে আইনের শাসন ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি সাবরি এক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের ঐক্য ও সহনশীলতার প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশটি দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ফিরে আসবে।
রাশিয়া
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত সাংবিধানিক ও স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
সূত্র: আলজাজিরা