হুথি হামলা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা বললেন এরদোয়ান-সৌদি যুবরাজ

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-এর বরাতে এ তথ্য জানায়।
এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটকে স্বাগত জানিয়ে এর সফলতা কামনা করেন।
সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং জিজান ও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়।
গত ৩০ জুলাই সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে এ জোট গঠন করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকটের মধ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জোট গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। তবে ইইউর বিদ্যমান ‘অ্যাসপিডেস’ নৌ-নিরাপত্তা মিশনের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটের কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জোটে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, মিশর, সোমালিয়া, জিবুতি, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এখনো এই জোটে যোগ দেয়নি।