বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও

    হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিশ্বে হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে না পারায় এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বার্তায় ডব্লিউএইচও এ তথ্য জানায়।

    ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাল হেপাটাইটিস বর্তমানে বিশ্বে সংক্রামক রোগে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতি বছর এ রোগে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যার বেশিরভাগই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণে।

    সংস্থাটি জানায়, ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি ও সি। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ নতুন করে এ দুই ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। ২০২৪ সালে এ অঞ্চলে হেপাটাইটিস বি ও সি-তে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার নতুন সংক্রমণ এবং প্রায় ২ লাখ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

    ডব্লিউএইচওর হিসাবে, বাংলাদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সক্রিয় হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের হার প্রায় ০.৬ শতাংশ। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি।

    একই সঙ্গে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস বি-জনিত মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশের জন্য দায়ী ১০টি দেশের তালিকায়ও ছিল বাংলাদেশ।

    ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য এবং হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, পরীক্ষা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের নানা বাধার কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সবার জন্য সহজলভ্য করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

    ডব্লিউএইচও জানায়, জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা (২০২০-২০৩০), জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকাদান জোরদার, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে জনসচেতনতার অভাব, সামাজিক কলঙ্ক, সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

    এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও চারটি অগ্রাধিকার খাতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এগুলো হলো— সময়মতো হেপাটাইটিস বি টিকাদান নিশ্চিত করা, নিরাপদ রক্ত ও ইনজেকশন ব্যবস্থা জোরদার করা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা সংযুক্ত করা, সহজলভ্য হেপাটাইটিস সি চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং রোগসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।

    ডব্লিউএইচওর মতে, কার্যকর প্রতিরোধ, সময়মতো পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সেবার বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্যের দিকে আরও দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।


    সূত্র: ইউএনবি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন