বেন অ্যাফলেকের এআই কোম্পানি কিনে নিল নেটফ্লিক্স

এআই প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করেছে বিশ্বের শীর্ষ ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স। চলচ্চিত্র নির্মাণ ও পোস্ট-প্রোডাকশন প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কোম্পানি ইন্টারপজিটিভ অধিগ্রহণ করেছে। এ জন্য নেটফ্লিক্স ব্যয় করেছে ৫৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নিয়ন্ত্রক নথিতে প্রথমবারের মতো চুক্তিটির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও চলতি বছরের মার্চে অধিগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তখন লেনদেনের অর্থমূল্য জানানো হয়নি।
ইন্টারপজিটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা হলিউড অভিনেতা ও পরিচালক বেন অ্যাফলেক। অধিগ্রহণের সময় তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য মানুষের সৃজনশীলতাকে প্রতিস্থাপন করা নয়, বরং নির্মাতাদের কাজকে আরও কার্যকর ও সহজ করে তোলা।
প্রতিষ্ঠানটির এআই প্রযুক্তি মূলত চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে শুটিংয়ে বাদ পড়া দৃশ্য পুনর্নির্মাণ, ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন, আলোর ত্রুটি সংশোধন এবং ভিডিওর মান উন্নয়নের মতো কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, ইন্টারপজিটিভের পুরো টিম এখন তাদের সঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি বেন অ্যাফলেকও নেটফ্লিক্সে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত থাকবেন। তবে তার দায়িত্বের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্পে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ভিডিও সম্পাদনা, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, শব্দ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন কারিগরি কাজে এআই ব্যবহারের ফলে সময় ও ব্যয় কমছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এআই ব্যবহারের বিস্তার নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অনেক নির্মাতা ও শিল্পীর আশঙ্কা, অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা মানুষের সৃজনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দাবি, এআই মানুষের বিকল্প নয়; বরং সৃজনশীল কাজের সহায়ক একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি।
নেটফ্লিক্সের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের প্রায় ৩০০টি চলচ্চিত্র ও সিরিজে ইতোমধ্যে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারপজিটিভ অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব এআই সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে, যা ভবিষ্যতে কম সময় ও কম খরচে উন্নতমানের কনটেন্ট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।